কবরের নিচে লুকিয়ে ১২০ কোটির রহস্য! মঠের জমি হাতাতে যেভাবে মৃতদেহকে ‘ওয়ারিশ’ বানাল জালিয়াতরা!

সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে এই জালিয়াতির গল্প! আদিচুঞ্চনাগিরি মঠের (Adichunchanagiri Mutt) প্রায় ১২০ কোটি টাকা মূল্যের জমি হাতানোর এক অবিশ্বাস্য ছক ফাঁস করল বেঙ্গালুরুর কেঙ্গেরি থানার পুলিশ। এই চক্রের মূল পান্ডাদের খুঁজতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। ১২০ কোটির এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে কবরস্থান থেকে শুরু করে খোদ সরকারি দপ্তরের অন্দরে জাল বিছিয়েছিল অপরাধীরা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং দাগী অপরাধীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শ্মশানে খোঁজ, তারপরই শুরু ‘খেলা’!
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেঙ্গেরি হোবলির কাম্বালিপুরা গ্রামের ৪৩ নম্বর সার্ভে নম্বরের প্রায় ৬ একর জমি নিয়ে এই জালিয়াতির ছক কষা হয়েছিল। প্রায় ৩০ বছর আগে ভক্তরা মঠকে এই জমিটি দান করেছিলেন। কিন্তু দান করা জমির মূল মালিকের নামের সঙ্গে মিল রেখে মৃত কোনো ব্যক্তির খোঁজে কবরস্থানে তল্লাশি চালায় জালিয়াত দল।
অবশেষে মিলে যায় মিল থাকা এক মৃত ব্যক্তির নাম। এরপরই আসরে নামানো হয় বেগুড় এলাকার কুখ্যাত ‘রোডি-শিটার’ (Rowdy-sheeter) ফ্রান্সিসকে। ফ্রান্সিসের বাবার নাম এবং বয়স কাকতালীয়ভাবে মঠের জমির পুরনো নথির সঙ্গে মিলে যায়। ব্যস, আর পায় কে! এই সুযোগেই ফ্রান্সিসকে জমির আসল আইনি উত্তরাধিকারী সাজিয়ে একটি ভুয়া ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা বংশতালিকা তৈরি করে ফেলা হয়।
সরকারি টেবিলের নিচে কোটি টাকার ঘুষ
নথি তো জাল হলো, কিন্তু সরকারি খাতায় তা নথিভুক্ত হবে কীভাবে? এখানেই কাজে লাগানো হয় প্রশাসনের একাংশকে। অভিযোগ, বিশাল অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এই জালিয়াতিতে সরাসরি মদদ দেন ৬ জন সরকারি রাজস্ব কর্মকর্তা। গ্রেপ্তার হওয়া এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন গ্রামের হিসাবরক্ষক (Village Accountants), রাজস্ব পরিদর্শক (Revenue Inspectors) এবং ডেপুটি তহশিলদাররা। তাঁরা সব জেনেবুঝেও ভুয়া নথিপত্রকে আসল বলে সিলমোহর দিয়ে দেন।
সরকারি সিলমোহর পেতেই মঠের মালিকানাধীন ওই ১২০ কোটি টাকার জমি তৃতীয় পক্ষের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
কীভাবে ফাঁস হলো এই মহাপরিকল্পনা?
সম্প্রতি আদিচুঞ্চনাগিরি মঠের কর্তৃপক্ষ জানতে পারে যে তাদের অজান্তেই জমির মালিকানা হস্তান্তর হয়ে গেছে। তড়িঘড়ি তারা কেঙ্গেরি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ তদন্তে নামতেই একের পর এক জট খুলতে শুরু করে। উঠে আসে কবরস্থান থেকে শুরু করে সরকারি দপ্তরের যোগসাজশের এই রোমহর্ষক কাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, এই জালিয়াতির মূল মাস্টারমাইন্ড নরেশ গৌড় এবং দালাল আরোগ্যস্বামী। বর্তমানে মূল হোতা নরেশ পলাতক। তার খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই চক্রের সাথে আরও বড় কোনো মাথা জড়িয়ে রয়েছে কি না, তা জানতে গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।