ভাগলপুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড! বাঁশঝাড়ে ঝুলন্ত দেহ, চোখ উপড়ে ফেলার ঘটনায় চাঞ্চল্য

কানহাইয়ার মৃতদেহে আঘাতের একাধিক চিহ্ন মিলেছে, যা পুলিশকে খুনের দিকেই ঠেলছে। মৃতের ডান চোখটি কোনো ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, দুষ্কৃতীরা কানহাইয়াকে হত্যার পর প্রমাণ লোপাট করতে এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য দেহটি বাঁশঝাড়ে ঝুলিয়ে দেয়।
কী ঘটেছিল রবিবার?
পরিবারের দাবি, কানপুর থেকে ১০ দিন আগে গ্রামে ফিরেছিলেন কানহাইয়া। রবিবার তাঁর কাজে ফেরার কথা থাকলেও যাত্রা পিছিয়ে মঙ্গলবার করেছিলেন তিনি। রবিবার দুপুর পর্যন্ত সব স্বাভাবিকই ছিল। এমনকী, স্ত্রী লক্ষ্মী কুমারীর সঙ্গে তাঁকে হাসিখুশিতে সময় কাটাতে দেখা গিয়েছিল। দুজনে মিলে একে অপরের পায়ে ও হাতে আলতাও লাগিয়েছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। শোনা যাচ্ছে, দম্পতির মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয় এবং এরপরই কানহাইয়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। সোমবার ভোরে তাঁর মায়ের চোখে পড়ে ছেলের ঝুলন্ত দেহ।
পুলিশের তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে যা যা:
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে হেডকোয়ার্টার্সের ডিএসপি মনোজ কুমারের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এফএসএল (FSL) দল। পুলিশ মূলত তিনটি বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে:
পরকীয়া সম্পর্কের ছায়া: গ্রামে গুঞ্জন রয়েছে, কানহাইয়ার অনুপস্থিতিতে কিছু বহিরাগত প্রায়ই তাঁর বাড়িতে যাতায়াত করত, যা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কানহাইয়ার মতপার্থক্য ছিল।
সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি: মৃতের স্ত্রী লক্ষ্মী সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং রিল বানাতে ভালোবাসতেন। পুলিশ লক্ষ্মীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে এবং তাঁর কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল খুঁটিয়ে দেখছে।
লক্ষ্মীর অতীত: পুলিশ জানিয়েছে, এটি লক্ষ্মীর দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে বেগুসরাইতে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়েছিল।
পুলিশের বক্তব্য:
এসডিপিও অনিকেত অমর জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সবকটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং এফএসএল-এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হাতে এলে খুনের রহস্য দ্রুত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে পুলিশ।