৪ বছর পর মিলল সুবিচার! বুদ্ধের মূর্তি চুরির মামলায় সিবিআইয়ের জালে শেষ পলাতক আসামি

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ‘গাড়োয়া দুর্গ’ ডাকাতি ও হত্যা মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। শনিবার উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলার নাসিরপুর গ্রাম থেকে রামনারায়ণ ওরফে হায়দারকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই মামলার সকল পলাতক আসামিকে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হলো।
কী ঘটেছিল ২০০২ সালে? ২০০২ সালের ২১ ও ২২ এপ্রিল গভীর রাতে প্রয়াগরাজের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI) সুরক্ষিত গাড়োয়া দুর্গে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগ, বিজয় কুমার শুক্লার নেতৃত্বে ১১ জনের একটি সশস্ত্র দল দুর্গে ঢুকে প্রহরী বিনোদ কুমার শ্রীবাস্তবকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এরপর তারা দুর্গের গুদামঘর ভেঙে ভগবান বুদ্ধের একটি অমূল্য পাথরের মূর্তি চুরি করে। মূর্তিটি সরিয়ে নেওয়ার সময় তা ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গিয়েছিল, যা পরে দিল্লির মহিপালপুরের একটি গুদাম থেকে বিদেশে পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
দীর্ঘ তদন্ত ও সিবিআই-এর সাফল্য ২০০৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে আসে। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০০৫ সালে ১০ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এর মধ্যে চারজন দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। গত কয়েক মাসে সিবিআই-এর বিশেষ দল নিরলস নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একে একে অভিযুক্তদের জালে তোলে।
-
সুরজ ভান: গ্রেপ্তার হয় ২২ মে, ২০২৬।
-
রবি করণ: গ্রেপ্তার হয় ০২ জুন, ২০২৬।
-
বিজয় কুমার শুক্লা: চিত্রকূট জেলা কারাগার থেকে শনাক্ত।
-
রামনারায়ণ ওরফে হায়দার: সর্বশেষ গ্রেপ্তার ০৪ জুলাই, ২০২৬।
আইনি ব্যবস্থা সিবিআই সূত্র জানিয়েছে, রামনারায়ণ ওরফে হায়দারের গ্রেপ্তারের ফলে মামলার সমস্ত পলাতক অভিযুক্তকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। এখন লখনউয়ের বিশেষ আদালতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রায় ২৪ বছর ধরে চলা এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি এখন সময়ের অপেক্ষা।