পাকিস্তানি ক্রিমের মরণফাঁদ! মেখে কিডনি বিকল ১৮ মহিলার, মহারাষ্ট্রে নিষিদ্ধ ৩টি ব্র্যান্ড

ফর্সা হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে পুঁজি করে বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে মরণফাঁদ। পাকিস্তান থেকে চোরাপথে আসা জনপ্রিয় বেশ কিছু বিউটি ক্রিম ব্যবহার করে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ১৮ জন মহিলার কিডনি বিকল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় প্রসাধনী সামগ্রীগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মহারাষ্ট্র সরকার।

৭৫২ গুণ বেশি পারদ! স্বাস্থ্য সচেতন মহল ও মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই পাকিস্তানি ফেয়ারনেস ক্রিমগুলোতে আইনত অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে প্রায় ৭৫২ গুণ বেশি পারদ (Mercury) রয়েছে। পারদ ত্বককে সাময়িকভাবে ফর্সা দেখালেও, এটি ধীরে ধীরে শরীরের রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে সরাসরি কিডনিতে পৌঁছে যায় এবং অঙ্গহানি ঘটায়।

নিষিদ্ধ ৩টি পাকিস্তানি ক্রিম মহারাষ্ট্র FDA-র কঠোর নির্দেশনায় যে ৩টি প্রসাধনী পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেগুলো হলো:

  • গোরী বিউটি ক্রিম (Goree Beauty Cream)

  • ফেস ফ্রেশ গোল্ড বিউটি ক্রিম ও বিউটি সিরাম (Face Fresh Gold Beauty Cream & Beauty Serum)

  • গোল্ডেন স্টার বিউটি ক্রিম (Golden Star Beauty Cream)

অনলাইন বাজারে অবাধ বিচরণ পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও, কীভাবে এই বিষাক্ত ক্রিম ভারতে ঢুকছে? তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পেজ এবং অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম ‘মিশো’ (Meesho)-র মাধ্যমে এই নিষিদ্ধ প্রসাধনীগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল।

প্রশাসনের সতর্কবার্তা গত ২ বছরে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত ১৮ জন মহিলার চিকিৎসায় একটি অদ্ভুত মিল খুঁজে পান চিকিৎসকরা। ওই ১৮ জনই নিয়মিতভাবে এই পাকিস্তানি ক্রিমগুলো ব্যবহার করছিলেন। এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ডে এই বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ক্রিমগুলো বিক্রি বা বিতরণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

জনসাধারণের উদ্দেশে প্রশাসনের বার্তা: ফর্সা হওয়ার নেশায় কিডনি বা স্নায়ুতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবেন না। কোনো ধরনের নামহীন বা বিদেশ থেকে আসা বেআইনি প্রসাধনী ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *