বেতন কম হলেও ফাইল করতে হবে ITR! এই ৯টি ভুলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ভিসার আবেদন আটকে যেতে পারে

সাধারণত মানুষের ধারণা, বার্ষিক আয় করসীমার উপরে গেলেই কেবল আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিল করতে হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের আয়কর নিয়ম অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে আয় করযোগ্য না হলেও রিটার্ন দাখিল করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক। আপনার ছোট একটি অবহেলা ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণের আবেদন, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ বা কর সংক্রান্ত জটিলতার কারণ হতে পারে।

কোন ৯টি ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক?

১. বিশাল অংকের ব্যাংক জমা: যদি আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টে বার্ষিক ৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জমা থাকে, অথবা কারেন্ট অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ২. বিদেশ ভ্রমণের খরচ: কোনো আর্থিক বছরে নিজের বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিদেশ ভ্রমণে যদি আপনি ২ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করে থাকেন। ৩. উচ্চ বিদ্যুৎ বিল: যদি এক বছরে আপনার বিদ্যুৎ বিলের খরচ ১ লক্ষ টাকার বেশি হয়। ৪. পেশাগত আয়: চিকিৎসক, আইনজীবী বা ফ্রিল্যান্সারদের মতো পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ টাকার বেশি হলে। ৫. ব্যবসায়িক টার্নওভার: ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক টার্নওভার ৬০ লক্ষ টাকার বেশি হলে। ৬. টিডিএস/টিসিএস (TDS/TCS): সাধারণ করদাতাদের ক্ষেত্রে বছরে মোট টিডিএস বা টিসিএস ২৫,০০০ টাকা এবং প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে ৫০,০০০ টাকার বেশি হলে। ৭. বৈদেশিক সম্পদ: ভারতের বাসিন্দা হওয়ার পাশাপাশি যদি বিদেশে আপনার কোনো সম্পত্তি থাকে, বিদেশি কোম্পানিতে শেয়ার থাকে বা বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অধিকার থাকে। ৮. করসীমার অতিরিক্ত আয়: বর্তমান কর কাঠামো অনুযায়ী, যদি আপনার বার্ষিক আয় নির্ধারিত করছাড়ের সীমা (২.৫ লক্ষ, ৩ লক্ষ বা ৫ লক্ষ টাকা বয়সভেদে) অতিক্রম করে। ৯. ব্যাংক লেনদেনের রেকর্ড: আয়কর বিভাগ আপনার বড় অংকের লেনদেনের ওপর নজর রাখে। তাই নিয়ম অনুযায়ী তথ্য গোপন না করে রিটার্ন দাখিল করাই নিরাপদ।

কেন রিটার্ন দাখিল করা বুদ্ধিমানের কাজ? আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিটার্ন দাখিল করা কেবল আইনি দায়বদ্ধতা নয়, বরং এটি আপনার স্বচ্ছ আর্থিক রেকর্ডের প্রমাণ। ভিসা পাওয়া, গৃহঋণ বা ব্যক্তিগত ঋণের আবেদনের সময় আইটিআর কপি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথির ভূমিকা পালন করে। এছাড়া কোনো রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য হলে, তা সময়মতো রিটার্ন ফাইল করলেই পাওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: রিটার্ন দাখিল করার আগে গত এক বছরের সমস্ত ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিনিয়োগের নথি এবং বিদ্যুৎ বিলের হিসাব যাচাই করে নিন। কোনো বিভ্রান্তি এড়াতে আয়কর বিশেষজ্ঞ বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্টের পরামর্শ নেওয়া সবথেকে শ্রেয়। মনে রাখবেন, সময়মতো রিটার্ন জমা দিয়ে আপনি কেবল জরিমানাই এড়ান না, বরং নিজেকে কর সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা থেকে মুক্ত রাখেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *