৯০ হাজার টাকা বেতন তবুও দেউলিয়া! কীভাবে ঋণজালের ফাঁদে পড়লেন এক ব্যক্তি? জানুন সতর্কবার্তা

হাতের মুঠোয় ৯০ হাজার টাকার মাসিক বেতন থাকা সত্ত্বেও একজন ব্যক্তি কীভাবে ১৫ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়লেন? পুনের এক অপারেশন ম্যানেজারের এই বাস্তব ঘটনা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আর্থিক বিশেষজ্ঞ বিবেক এস জি-র শেয়ার করা এই গল্পটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ও জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুতি না থাকলে জীবন কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ঋণজালের শুরু যেখানে: ঘটনার সূত্রপাত তিন বছর আগে, যখন ওই ব্যক্তির বাবার চিকিৎসার জন্য ৫ লক্ষ টাকার জরুরি প্রয়োজন পড়ে। সেই সময়ে ১৪ শতাংশ সুদে একটি পার্সোনাল লোন নেওয়া হয়। মাসিক ১৩,৬৬৩ টাকার নতুন EMI যুক্ত হওয়ার ফলে ঘরোয়া বাজেটের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। নিত্যদিনের খরচ মেটাতে তিনি বাধ্য হয়ে ক্রেডিট কার্ডের আশ্রয় নেন, যা ধীরে ধীরে তাঁকে এক গোলকধাঁধায় ফেলে দেয়।
যেভাবে ঋণের পরিমাণ বাড়ল:
-
ক্রেডিট কার্ডের ফাঁদ: ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণের ওপর ৩৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত চড়া সুদের কারণে মূল টাকা কমছিল না, উল্টে তা পাহাড়প্রমাণ আকার ধারণ করছিল।
-
নতুন ঋণে সংকট: পুরোনো ঋণ মেটাতে গিয়ে তিনি পুনরায় ৬ লক্ষ টাকার লোন নেন। কিন্তু খারাপ ক্রেডিট স্কোরের কারণে এই ঋণের সুদের হার ছিল ১৮ শতাংশ।
-
EMI-এর চাপ: দুই বছরের মধ্যে তাঁর মোট ঋণের পরিমাণ ১৫ লক্ষ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। তাঁর ৯০ হাজার টাকা বেতনের ৫ শতাংশের বেশি অর্থাৎ ৫১ হাজার টাকাই চলে যাচ্ছিল শুধুমাত্র EMI মেটাতে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: আর্থিক বিপর্যয় রুখতে কী করণীয়? বিবেক এস জি-র মতে, এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচার উপায়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. ৪০ শতাংশের বেশি EMI বিপদজনক: যদি আপনার মাসিক আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি অংশ EMI দিতে চলে যায়, তবে সতর্ক হোন। সেই সময়ে নতুন কোনো ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ২. জরুরি তহবিল (Emergency Fund): প্রতিটি পরিবারের উচিত আয় অনুযায়ী একটি আলাদা ইমার্জেন্সি ফান্ড রাখা, যাতে চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে চড়া সুদে ঋণ নিতে না হয়। ৩. ঋণের অগ্রাধিকার নির্ধারণ: আপনার সমস্ত ঋণের একটি তালিকা তৈরি করুন। যে ঋণটিতে সুদের হার সবচেয়ে বেশি (যেমন- ক্রেডিট কার্ড লোন), সেটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত শোধ করার চেষ্টা করুন। ৪. ক্রেডিট কার্ডের সঠিক ব্যবহার: ক্রেডিট কার্ডের মিনিমাম পেমেন্ট করে কখনোই দায় এড়াবেন না, কারণ এতে সুদের বোঝা বহুগুণ বেড়ে যায়।