মন্ত্রিত্ব খারিজের নতুন বিল নিয়ে তোলপাড়! কেন তীব্র বিরোধিতায় নামছে কংগ্রেস?

প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে এবং তাঁরা টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকলে পদ থেকে অপসারণের যে প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী বিল কেন্দ্র আনতে চলেছে, তা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলল কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, এই বিলটি আদতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এবং বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত কৌশল।

কংগ্রেসের অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ রবিবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের দল এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করবে। তাঁর মতে, ভারতীয় বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতি হলো—‘দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত নির্দোষ’। আদালত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগেই কেবলমাত্র হেফাজতের ভিত্তিতে কোনো জনপ্রতিনিধিকে ক্ষমতাচ্যুত করা বিচারিক নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। জয়রাম রমেশের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী নেতাদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করিয়ে এই আইনের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।

কী আছে প্রস্তাবিত বিলে? প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী যদি পাঁচ বছর বা তার বেশি সাজাযোগ্য কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হন এবং ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকেন, তবে ৩১তম দিন থেকে তিনি আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা রাষ্ট্রপতির নির্দেশে স্বপদে বহাল থাকতে পারবেন না। এই বিলটি পাস হলে দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর বড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংসদে কি সংখ্যার লড়াইয়ে আটকে যাবে বিল? কংগ্রেসের দাবি, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে যে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের প্রয়োজন, তা সরকারের কাছে নেই। জয়রাম রমেশ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, বিরোধী দলগুলিতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করেও সরকার প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারবে না। এছাড়া সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে এই বিলের পাশাপাশি মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করতে ‘ডিলিমিটেশন’ সংক্রান্ত বিলেরও বিরোধিতা করবে কংগ্রেস।

সব মিলিয়ে, সংসদের বাদল অধিবেশন যে কেন্দ্র ও কংগ্রেসের মধ্যে এক নজিরবিহীন উত্তপ্ত বিতর্কের সাক্ষী হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *