ট্রাম্প-জিনপিংয়ের গোপন বৈঠকই ম্যাজিক! চীন থেকে মুক্তি পেলেন বন্দি খ্রিস্টান ধর্মগুরু

কয়েক মাসের টানটান উত্তেজনা আর অনিশ্চয়তার অবসান। চীনের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ চার্চের প্রধান পাদ্রি এজ্রা জিন। বর্তমানে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের পরিবারের কাছে নিরাপদে পৌঁছে গিয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর মুক্তির নেপথ্যে বিশ্ব রাজনীতির এক বড় সমীকরণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে হওয়া সরাসরি কথোপকথনই এই মুক্তির পথ প্রশস্ত করেছে।
ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে মিটল সংকট? এজ্রা জিনের পরিবারের কাছে এই মুক্তি কোনো অলৌকিক ঘটনার চেয়ে কম নয়। তারা জানান, গত মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, তখনই তিনি এজ্রা জিনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন। পরিবারের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ না থাকলে চীনের কঠোর আইনি বেড়াজাল থেকে এজ্রার মুক্তি প্রায় অসম্ভব ছিল।
কেন গ্রেফতার হয়েছিলেন এজ্রা জিন? ২০১৭ সালে বেইজিংয়ের অন্যতম বৃহত্তম ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ বা হাউস চার্চ ‘জায়োন চার্চ’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এজ্রা জিন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, চীনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিবন্ধনের অধীনে থাকতে হয়। তবে নজরদারি এড়াতে অনেক চার্চ গোপনে পরিচালিত হয়। ২০১৮ সালে কর্তৃপক্ষ জায়োন চার্চের ভবন সিলগালা করে দেয়। পরবর্তীতে অনলাইনে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে গত বছরের অক্টোবরে এজ্রা জিনসহ চার্চের বেশ কয়েকজন নেতাকে ‘অবৈধ তথ্য নেটওয়ার্ক ব্যবহারের’ দায়ে গ্রেফতার করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ পাদ্রি এজ্রার মুক্তিকে ‘চায়না এইড’ (ChinaAid)-এর মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলো স্বাগত জানালেও, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপ-পরিচালক মায়া ওয়াং জানিয়েছেন, এখনও জায়োন চার্চের অন্তত আটজন সদস্য চীনের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাদের দ্রুত মুক্তির দাবি তুলেছেন তিনি।
এই ঘটনার পর চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের মাঝে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিল।