সহকর্মীর চেয়ে বেতন কম কেন? গোল্ডম্যান স্যাকসের ম্যানেজারের এই সত্য কথাটি বদলে দিল ইঞ্জিনিয়ারের জীবন!

প্রায়ই মনে হয়, সহকর্মীর চেয়ে পরিশ্রম কম করছি না, তবুও আমার বেতন কেন কম? এই প্রশ্ন প্রায় প্রতিটি কর্মজীবী মানুষের মনে ঘুরপাক খায়। কিন্তু এই উত্তর পাওয়ার প্রক্রিয়াটি যে কতটা জটিল, তা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করেছেন এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। মাইক্রোসফটের ইঞ্জিনিয়ার কৃতি রোহিলার লিঙ্কডইন পোস্ট এখন কর্পোরেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
যা ঘটেছিল গোল্ডম্যান স্যাকসে
লিঙ্কডইনে কৃতি জানিয়েছেন, গোল্ডম্যান স্যাকসে থাকাকালীন তিনি সরাসরি তাঁর ম্যানেজারকে বেতনের বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তাঁর কথায়, সেই আলোচনাটি ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। কোনো সহকর্মীর থেকে কম বেতন পাওয়াটা যেমন যন্ত্রণাদায়ক, তেমনি ম্যানেজারের কাছে সেই কৈফিয়ত চাওয়াটাও ছিল অস্বস্তিকর।
বেতনের আসল খেলা: কেন তৈরি হয় ব্যবধান?
ম্যানেজার কৃতিকে একটি সহজ কিন্তু কঠোর সত্য বুঝিয়েছিলেন। তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে অর্থাৎ যখন কৃতি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন তাঁর হাতে কোনো ‘অফার লেটার’ ছিল না। তাই কোম্পানি তাঁর প্রাথমিক বেতন নির্ধারণ করেছিল সাধারণ নিয়মে। কৃতি বলেন, “আইআইটি বা বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের যে কাজ করতে হয়, আমার দায়িত্বও ছিল তার সমান। কিন্তু কাজের মান এক হলেও, প্রাথমিক প্যাকেজের পার্থক্যের কারণে বছরের পর বছর বেতন কাঠামোতে আকাশ-পাতাল তফাত রয়ে যায়।”
চাকরি ছাড়ার নোটিশ দিতেই সব বদলে গেল!
বেতন বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা না দেখে কৃতি অন্য কোম্পানির খোঁজ শুরু করেন। তিন মাসের চেষ্টায় তিনি একটি ভালো প্যাকেজের প্রস্তাব পান এবং গোল্ডম্যান স্যাকসে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কৃতি জানান, পদত্যাগের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই কোম্পানি তাঁর বেতনের অঙ্ক বড় করে দিয়ে তাঁকে থেকে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়।
কর্পোরেট জগতের বড় শিক্ষা
এই ঘটনা থেকে কৃতি একটি মূল্যবান শিক্ষা পেয়েছেন। তিনি বুঝেছেন:
-
শুধু কঠোর পরিশ্রম যথেষ্ট নয়: কর্পোরেট জগতে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য মাঝে মাঝে অন্য কোনো কোম্পানির শক্তিশালী ‘অফার’ হাতে রাখা প্রয়োজন।
-
ম্যানেজার বনাম সিস্টেম: কোম্পানিগুলো সরাসরি কারো বেতন বাড়াতে চায় না, কারণ প্রত্যেক ম্যানেজারকে বাজেট এবং কোম্পানির নীতি মেনে চলতে হয়।
-
দর কষাকষির ক্ষমতা: যখন আপনার হাতে দ্বিতীয় কোনো অপশন থাকে, তখনই কোম্পানি আপনার মূল্যায়নে বাধ্য হয়।
কৃতির এই পোস্টটি শেয়ার হওয়ার সাথে সাথেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ নিজেদের কর্মজীবনের একই অভিজ্ঞতার কথা কমেন্ট বক্সে তুলে ধরেছেন। আপনার ক্ষেত্রেও কি কখনো এমনটি ঘটেছে? কমেন্ট করে জানান আমাদের।