দল বাঁচাতে ‘রাম রক্ষা’ আন্দোলন উদ্ধবের, নিশানা শিন্ডে-বিজেপি আঁতাঁত

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে থাকা শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে ফের রামকে হাতিয়ার করে ময়দানে নামলেন। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে উদ্ধব ঘোষণা করেছেন, আগামী ৫ জুলাই থেকে তিনি রাজ্যজুড়ে ‘রাম রক্ষা’ নামে এক নতুন গণ-আন্দোলন শুরু করবেন। একদিকে একনাথ শিন্ডের শিবির, অন্যদিকে বিজেপির প্রবল চাপ—এই দুইয়ের মোকাবিলায় উদ্ধব এখন ‘রাম ভরসা’তেই রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবনের স্বপ্ন দেখছেন।
আন্দোলনের নেপথ্যে: সম্প্রতি উদ্ধবের দলের ছয় সাংসদ এবং আদিত্য ঠাকরের ঘনিষ্ঠ এক বিধান পরিষদ সদস্যের শিন্ডে শিবিরে যোগ দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। উদ্ধবের অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই এই ভাঙন ধরানো হয়েছে। এই রাজনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতেই তিনি এখন ‘রাম রক্ষা’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। অতীতে অযোধ্যা আন্দোলন এবং রাম মন্দির নির্মাণের দাবিতে বালাসাহেব ঠাকরের শিবসেনার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকেই এবার নিজের দলের মর্যাদা ও অস্তিত্ব রক্ষার ঢাল করতে চাইছেন উদ্ধব।
অযোধ্যা বিতর্ক ও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ: অযোধ্যা রাম মন্দিরের দানপাত্রে অর্থ নয়ছয় ও চুরির সাম্প্রতিক বিতর্ককে এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি করেছেন উদ্ধব। তিনি অভিযোগ করেন, “মন্দিরের দানপাত্রের পবিত্র টাকা দিয়েই বিজেপি এখন বিরোধী দলের নেতা-মন্ত্রীদের কিনে নিচ্ছে। ভগবান রাম আজ সুবিধাবাদীদের হাতে বন্দি।” প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর বিখ্যাত উক্তি—‘অব হিন্দু মার নহি খায়গা’—উদ্ধৃত করে উদ্ধব হুঙ্কার দিয়েছেন, “রাম মন্দিরের চুরির ঘটনার পর এখন বলতে হয়, আব হিন্দু মাফ নহি করেগা!”
মহারাষ্ট্র সফরের প্রস্তুতি: উদ্ধব ঠাকরে ঘোষণা করেছেন, রবিবার থেকেই তিনি মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে সফর করবেন। রামভক্তদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভগবান রামচন্দ্র নিজেই এখন বিপন্ন। সুবিধাবাদীদের হাত থেকে রামকে রক্ষা করতে সকল রামভক্তদের একজোট হতে হবে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উদ্ধব ঠাকরের এই ‘হিন্দুত্ব’ কার্ড নতুন কিছু নয়। অতীতে যখনই তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা বা দলের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে, তিনি অযোধ্যা ও রামের দ্বারস্থ হয়েছেন। এবার অবশ্য অযোধ্যা না গিয়ে নিজ রাজ্যে রামের নামেই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: উদ্ধবের এই ‘রাম রক্ষা’ আন্দোলন কতটা সাধারণ মানুষের আবেগ ছুঁতে পারবে এবং তার হাত ধরে দল ভাঙনের ধাক্কা সামলে তিনি ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা। শিন্ডে ও বিজেপির শক্তিশালী জোটের বিরুদ্ধে রামের নাম করে এই আন্দোলন কতটা রাজনৈতিক ফসল ঘরে তুলতে পারে, সেটাই এখন মহারাষ্ট্রের রাজনীতির প্রধান কৌতূহল।