সরকারি কর্মীদের বেতন ৬০ হাজার টাকা? ৮ ম বেতন কমিশনে বড়সড় চমক!

অষ্টম বেতন কমিশনের গঠনের তোড়জোড়ের মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলো বেতন নির্ধারণের পুরনো মডেলে বড়সড় পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। এতদিন বেতন কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে যে ‘৩ ফ্যামিলি ইউনিট’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো, তা বদলে ‘৫ ফ্যামিলি ইউনিট’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই দাবি মানা হলে সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন এই ‘৩ থেকে ৫’ ইউনিটের দাবি? ৭ম বেতন কমিশন পর্যন্ত ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত ৩ সদস্যের ফ্যামিলি ইউনিট (কর্মচারী, স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান) বিবেচনা করা হতো। কিন্তু ‘অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন’ (AINPSEF)-সহ বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের বক্তব্য, ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এই মডেলটি বর্তমানে অত্যন্ত সেকেলে। তাদের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীকে শুধু স্ত্রী বা সন্তানের খরচই বহন করতে হয় না, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে থাকে। তাই বর্তমান বাস্তবতায় পরিবার বলতে কর্মচারী, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীল বাবা-মাকে মিলিয়ে ৫ সদস্যের ইউনিট হিসেবেই ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করা উচিত।

বদলে যাওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব কর্মী সংগঠনগুলোর মতে, বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, বাড়িভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দাম সামলাতে পুরনো মডেল আর কার্যকর নয়। তাই এই নতুন দাবিটি পেশাদার ও বিজ্ঞানসম্মত বলে তারা মনে করছে।

বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত সংগঠনগুলোর এই প্রস্তাব যদি অষ্টম বেতন কমিশনে গৃহীত হয়, তবে সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে ৭ম বেতন কমিশনে ন্যূনতম ১৮,০০০ টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ ইউনিটের ভিত্তিতে (৬,০০০ × ৩)। নতুন প্রস্তাবিত ৫ ইউনিটের হিসেবে:

  • প্রাথমিক হিসাব: ৬,০০০ × ৫ = ৩০,০০০ টাকা (ন্যূনতম মূল বেতন)।

  • ডিএ ও অন্যান্য ব্যয়: বর্তমানের প্রায় ৫৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) যুক্ত করলে এই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৪৭,৪০০ টাকায়।

  • চূড়ান্ত দাবি: পুষ্টি ও ভোগ্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান খরচ বিবেচনায় রেখে কর্মীদের সংগঠনের দাবি, ন্যূনতম মূল বেতন ৫৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকার (লেভেল-১) আশেপাশে হওয়া উচিত।

এর প্রভাব কী হবে? বেতন নির্ধারণের এই ফর্মুলা পরিবর্তিত হলে তা শুধু বেসিক স্যালারিই বাড়াবে না, বরং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বিভিন্ন ভাতা এবং অবসরের পর পেনশনের অঙ্কেও বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকার এই প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব দেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দেশের কয়েক লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী। এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন সরকারি কর্মীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে, তেমনই সরকারের ওপর খরচের বোঝাও অনেকটা বাড়বে। এখন দেখার বিষয়, অষ্টম বেতন কমিশন এই দাবিকে কতটা যুক্তিসঙ্গত মনে করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *