মোমোর আড়ালে ভয়ঙ্কর ব্ল্যাকমেইল চক্র! তরুণীদের আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে পলাতক বিক্রেতা, উত্তাল গয়া

বিহারের গয়া জেলায় এক মোমো বিক্রেতার বিরুদ্ধে উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনামূল্যে মোমো খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তরুণী ও নাবালিকাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করা এবং পরবর্তীতে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে শোরগোল পড়েছে এলাকায়। অভিযুক্ত মোমো বিক্রেতার নাম মহম্মদ রেহান। এখন পর্যন্ত ১০টি ভিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে অন্তত একজন নাবালিকা রয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কীভাবে চলত এই জঘন্য কর্মকাণ্ড?
অভিযোগ, মোহাম্মদ রেহান তার দোকানের খদ্দের তরুণীদের টার্গেট করত। সস্তায় বা বিনামূল্যে মোমো খাইয়ে সে সখ্যতা গড়ে তুলত। এরপর তাদের ফুসলিয়ে বাঁকেধাম পাহাড়ের একটি ধর্মীয় স্থানে নিয়ে গিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করত। পুলিশের দাবি, এই ভিডিওগুলো দিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো। দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে এই ভিডিওগুলো স্থানীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পুলিশের পদক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থা
বাঁকে বাজার থানায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখালে পুলিশ নড়েচড়ে বসে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে:
গুরুতর ধারায় এফআইআর: ধর্ষণ, পকসো আইন (POCSO Act) এবং এসসি-এসটি আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
ডিজিটাল প্রমাণ: পুলিশ ইন্টারনেট থেকে ১০টি ভিডিও উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করেছে। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাব (FSL) দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।
তদন্তের মোড়: অভিযুক্ত রেহান পুলিশি তৎপরতা বুঝতেই গয়া থেকে মুম্বাইয়ে পালিয়ে গেছে। তাকে ধরতে পুলিশের বিশেষ দল বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে।
ধর্মান্তরের অভিযোগ ও ক্ষোভ
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কেবল ব্ল্যাকমেইল নয়, এর পেছনে পরিকল্পিত ধর্মান্তরের বিষয়টিও থাকতে পারে। ভুক্তভোগী তরুণীরা সবাই একই সম্প্রদায়ের হওয়ায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দানা বেঁধেছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ যদি প্রথম দিনেই ব্যবস্থা নিত, তবে অভিযুক্ত পালানোর সুযোগ পেত না। পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, কেবল ব্ল্যাকমেইল নয়, ধর্মান্তরের অভিযোগসহ সমস্ত দিক নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাঁকে বাজার থানার কর্মকর্তা পবন কুমার জানিয়েছেন, নাবালিকা ভুক্তভোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তের মোবাইল ফোন উদ্ধার ও তাকে গ্রেফতার করাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।