সোনার দামে ২০০৮-এর পর এত বিরাট পতন ঘটেনি, জেনেনিন আজকের রেট?

সোনার বাজারে এখন কার্যত রক্তক্ষরণ! বছরের শুরুতে যে সোনা বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল, এখন তাতেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগের পরিবেশ। চলতি বছরের জুন মাসে সোনার দামে যে বিপুল পতন দেখা দিয়েছে, তা গত ১৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ৫০,৬০০ টাকা কমে ১ লক্ষ ৪২,৪১৩ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই রেকর্ড পতন? বাজার বিশ্লেষক ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কারণ এই পতনের পেছনে দায়ী:
-
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কড়া নীতি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
-
শক্তিশালী মার্কিন ডলার: বিশ্ববাজারে ডলারের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় সোনার দামের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।
-
মূল্যবৃদ্ধি: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বুলিয়ন মার্কেটে।
-
নিরাপদ বিনিয়োগের ধারণায় বদল: একসময় যুদ্ধ বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় সোনাকে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ মনে করা হতো। কিন্তু আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের আবহে সাময়িকভাবে চাহিদা বাড়লেও, বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় সেই প্রভাব ম্লান হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ‘Augmont’-এর রিসার্চ হেড রেনিশা চাইনানি জানিয়েছেন, টানা চার সপ্তাহ ধরে সোনার দাম নিম্নমুখী। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সোনা প্রায় ৩০ শতাংশ দাম হারিয়েছে। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসংস্থান রিপোর্ট এবং ম্যানুফ্যাকচারিং PMI তথ্যের ওপর। এই রিপোর্টগুলোই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।
এখন কি সোনা কেনার সময়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারের এই অস্থিরতা এখনই কাটছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে ৩,৯৫০-৪,০০০ ডলারের স্তরটি সোনার দামের জন্য এখন ‘ক্রিটিক্যাল সাপোর্ট’ হিসেবে কাজ করছে। যদি দাম এই স্তরের নিচে নামে, তবে তা ৩,৬০০ ডলার পর্যন্তও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরামর্শ: যারা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাদের এখনই তাড়াহুড়ো না করে বাজারের স্থিতিশীলতার অপেক্ষায় থাকা উচিত। আর যদি সোনা কেনার পরিকল্পনা থাকে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ডেটা প্রকাশের পর বাজারের গতিপ্রকৃতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।