অযোধ্যায় রাম মন্দিরের নৈবেদ্যে কি চুরি? নীরবতা ভাঙতে রাজ ঠাকরের তোপ, দাবি নিরপেক্ষ তদন্তের

অযোধ্যার শ্রী রাম মন্দিরে জমা পড়া অনুদান, গহনা এবং মূল্যবান সামগ্রীর হিসেবে অনিয়ম ও চুরির ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে। সোশাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই কেলেঙ্কারির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জনসাধারণের বিশ্বাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা
রাজ ঠাকরের দাবি, মন্দিরের হুন্ডিতে জমা করা ভক্তদের দান করা নগদ অর্থ ও গহনার সঠিক কোনো হিসাব দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “ভক্তরা যখন ভক্তিভরে অর্থ বা গহনা দান করেন, তাতে তাদের কঠোর পরিশ্রম ও বিশ্বাস মিশে থাকে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেই দান ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর বদলে ট্রাস্টি ও পুরোহিতদের পকেটে যাচ্ছে।” ইতিমধ্যে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) প্রাথমিক প্রতিবেদনে অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও, রাজ ঠাকরের মতে এটি কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র।

শাসক দলের ‘নীরবতা’ নিয়ে ক্ষোভ
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ ঠাকরে বলেন, “যারা ভগবান রামের নামে ক্ষমতায় এসেছেন, তারা আজ এই লুণ্ঠন নিয়ে কেন চুপ? নাকি ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে অযোধ্যায় ভরাডুবির পর, ভক্তদের প্রতি তাদের আর কোনো দায়বদ্ধতা নেই?” তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধী দল ভাঙতে ব্যস্ত, তাই ভগবান রামের ঘরে কী ঘটছে, তা দেখার সময় তাঁর নেই।

রাজনীতির উর্ধ্বে রাম মন্দির
এমএনএস প্রধান স্পষ্ট করেছেন যে, রাম মন্দির কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এই মন্দিরটি লক্ষ লক্ষ হিন্দু, সাধু-সন্ত এবং কর সেবকদের বিশ্বাসের প্রতীক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাবরি ধ্বংস বা রাম মন্দির আন্দোলনের সময় অনেক শিব সৈনিকও জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। কোনো নেতাই সেদিন এই আন্দোলনের একক কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেননি।

নির্বাচনী রাজনীতির প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। রাজ ঠাকরের মতে, এই কেলেঙ্কারি যোগী আদিত্যনাথের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে কোণঠাসা করার জন্য বিরোধীদের বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে। বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড় যে মন্দির ট্রাস্টের কাজকর্মকেও প্রভাবিত করছে, সেদিকেও তিনি ইঙ্গিত করেছেন।

ভক্তদের প্রতি রাজ ঠাকরের বার্তা
ভক্তদের উদ্দেশে রাজ ঠাকরে বলেছেন, “দেব-দেবীর পূজা করুন, কিন্তু যারা এই বিশ্বাসের পথে রাজনীতি করছে এবং ট্রাস্টের নামে পকেট ভরছে, তাদের পূজা করবেন না। তাদের কোনো দান দেবেন না।” স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবিতে তিনি হুঙ্কারে বলেছেন, শুধু মুখের কথায় হিন্দুত্ব হয় না, কাজেও তার প্রতিফলন থাকতে হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে রাজ ঠাকরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ সৃষ্টি করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *