রাম মন্দিরের অনুদানে বিশাল জালিয়াতি! ৮ অভিযুক্তের বাড়িতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, উদ্ধার তথ্য

রাম মন্দিরের দানবাক্সের টাকা তছরুপের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আটজনের বাড়িতে রবিবার ভোরে বিশাল তল্লাশি অভিযান চালাল উত্তর প্রদেশ পুলিশ। তদন্তের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে পুলিশ মূলত মন্দিরের খোয়া যাওয়া অর্থের উৎস এবং অভিযুক্তদের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তির খোঁজে এই অভিযান পরিচালনা করে।

কীভাবে চলল অভিযান?
স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও রাজস্ব আধিকারিকদের উপস্থিতিতে পুলিশের দল একযোগে এই আট অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দেয়। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য—বিগত চার বছরে অভিযুক্তদের পরিবার কী কী সম্পত্তি (জমি, গয়না, ব্যাঙ্ক জমা বা বিনিয়োগ) কিনেছে, তার একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করা। পুলিশ পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছে যে, অভিযুক্তরা হঠাৎ করে কোনো বিলাসদ্রব্য বা সম্পত্তি কিনেছিল কি না।

তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে আর্থিক জালিয়াতি:
সূত্রের খবর, এই ঘটনায় প্রায় ৭ থেকে ৭.৫ কোটি টাকা খোয়া যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৭৯.৮৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম অনুকল্প মিশ্রের আত্মীয় নেহা মিশ্র পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, মন্দিরের ট্রাস্টে কাজ শুরু করার পর থেকেই ওই পরিবারের আর্থিক অবস্থার নাটকীয় উন্নতি হয়েছিল। পুলিশি জেরার মুখে অভিযুক্তদের পরিবারের কয়েকজন অসহযোগিতা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্তদের তালিকা:
পুলিশের জালে ধরা পড়া আটজন হলেন— অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রাম শঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর ওরফে টিনু যাদব।

আইনি পদক্ষেপ:
মন্দিরের অনুদান গণনার দায়িত্ব থাকা এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—চাকরিরত অবস্থায় চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ, চোরাই সম্পত্তি গ্রহণ এবং ফৌজদারি ষড়যন্ত্র। এছাড়াও ‘প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্ট’-এর অধীনেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং তদন্তকারীরা তাদের জেরা চালিয়ে যেতে আদালতের কাছে হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *