AI-এর কারণে কার চাকরি গেল? জানতে ‘অনলাইন ট্র্যাকার’ আনল ক্যালিফোর্নিয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর প্রসারের ফলে বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাকে মোকাবিলা করতে এক বড় পদক্ষেপ নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। এআই-এর কারণে ঠিক কত মানুষ কাজ হারাচ্ছেন এবং কোন কোন পেশার মানুষ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন, তা প্রতি মাসে নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করতে একটি বিশেষ ‘অনলাইন ট্র্যাকার’ চালু করেছে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার।
কীভাবে কাজ করবে এই ট্র্যাকার? অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের উদ্যোগে তৈরি এই পোর্টালটি মূলত একটি ‘আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা’ (Early Warning System) হিসেবে কাজ করবে। ‘ক্যালিফোর্নিয়া এমপ্লয়মেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ এবং ‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া’র যৌথ সহযোগিতায় এই ট্র্যাকারটি তৈরি করা হয়েছে। বেকারত্ব বীমার তথ্যের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে এআই-এর প্রভাবের বিভিন্ন মাত্রা সমন্বয় করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হচ্ছে।
কাদের জন্য বড় ঝুঁকি? ট্র্যাকারটির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর প্রবণতা উঠে এসেছে:
-
বয়স ও লিঙ্গ: ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা এআই-এর কারণে ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে শীর্ষে রয়েছেন। এছাড়া পুরুষদের তুলনায় নারীরা এই ঝুঁকিতে বেশি রয়েছেন।
-
বিভাগসমূহ: শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ এবং শিল্পখাত—এই প্রতিটি সূচকের ভিত্তিতে ডাটা আপডেট করা হবে।
কেন এই উদ্যোগ? গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কার্যালয় জানিয়েছে, এআই-এর প্রভাবে ব্যাপক হারে চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটলে, সরকার যাতে আগেভাগে বুঝতে পারে ঠিক কোন খাতে এবং কোথায় সরকারি সহায়তার প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতেই এই পোর্টাল। তবে গবেষকদের মতে, এই ট্র্যাকারটিকে চূড়ান্ত নির্দেশিকা হিসেবে দেখা উচিত নয়। কারণ, ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে এআই-এর পাশাপাশি অন্যান্য অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবও থাকতে পারে।
প্রেক্ষাপট: ক্যালিফোর্নিয়া যেহেতু বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর মূল কেন্দ্র, তাই এআই-এর প্রভাব নিয়ে সেখানকার রাজনীতিতে চাপ বাড়ছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে থাকা গভর্নর নিউসম ইতিমধ্যেই রাজ্যের সরকারি সংস্থাগুলোকে এআই-এর নেতিবাচক প্রভাব কাটানোর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।