সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে বড় রায় হাইকোর্টের! ভাই হলেও পাবেন ক্ষতিপূরণ, আর্থিক নির্ভরতার প্রয়োজন নেই!

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত এক যুগান্তকারী রায়ে বড় স্বস্তি দিল গুজরাট হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তির ভাই বা বোন ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী, এমনকি মৃত ব্যক্তির ওপর তারা আর্থিকভাবে নির্ভরশীল না হলেও এই দাবি জানানো যাবে। আইনত উত্তরাধিকারী হওয়ার কারণেই তারা এই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
ঘটনাটি ১৯৯৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, সুরাটের। দ্রুতগামী একটি ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক লুনা আরোহীর। মৃত ব্যক্তি অবিবাহিত হওয়ায় তাঁর কোনো স্ত্রী বা সন্তান ছিল না। পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁর ভাইয়েরা মোটর দুর্ঘটনা দাবি ট্রাইব্যুনালে ক্ষতিপূরণের আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল ভাইদের পক্ষে রায় দিয়ে ২.০২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়।
হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ:
ট্রাইব্যুনালের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ট্রাকের মালিক ও চালক গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাদের প্রধান যুক্তি ছিল, মৃত ব্যক্তির ভাইয়েরা তাঁর ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল ছিলেন না এবং আলাদা থাকতেন। তাই মোটরযান আইন অনুযায়ী তারা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য নন। পাশাপাশি তারা দুর্ঘটনাটি ট্রাক চালকের অবহেলায় ঘটেনি বলেও দাবি করেন।
হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়:
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর গুজরাট হাইকোর্ট চালকের সমস্ত যুক্তি খারিজ করে দেয়। তদন্তকারী পুলিশি প্রতিবেদন এবং চালকের বয়ান পর্যালোচনা করে আদালত জানায়, দুর্ঘটনাটি স্পষ্টতই ট্রাক চালকের গাফিলতিতেই ঘটেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিচারপতি মূলচাঁদ ত্যাগী তাঁর পর্যবেক্ষণে মোটরযান আইনের ১৬৬ ধারা স্পষ্ট করেন। আদালত জানায়:
মোটরযান আইনের ১৬৬ ধারা অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির যেকোনো আইনানুগ প্রতিনিধি ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারেন।
ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য দাবিদারকে মৃত ব্যক্তির ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হতে হবে—আইনে এমন কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নেই।
এই রায়ের ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের আইনি উত্তরাধিকারীদের জন্য বিচার পাওয়ার পথ আরও সুগম হলো।