‘বাচ্চাদের কাছে ডিমের একটা মজা আছে’, ইস্কনের নিরামিষ ভোজের জল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন কুণাল

কলকাতা পৌরনিগম এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ‘ইস্কন’-কে দেওয়ার ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে মেনুতে ডিমের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বুধবার বিধানসভার বাজেট আলোচনায় এই প্রসঙ্গ তুলে সরকারি সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানালেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
‘ডিমের আকর্ষণে খায় বাচ্চারা’
বিধানসভায় বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “ইস্কন বা তাদের প্রসাদকে আমরা যথেষ্ট শ্রদ্ধা করি। কিন্তু মিড-ডে মিলের ক্ষেত্রে একটা বিষয় ভাবা প্রয়োজন। বাচ্চাদের কাছে ডিমের একটা আলাদা আকর্ষণ বা মজা আছে। অনেক সময় বাচ্চারা খেতে চায় না, তখন ওই ডিমের লোভেই তারা খাবারটা শেষ করে। ইস্কনের মেনু সাধারণত পুরোপুরি নিরামিষ বা ভেজ হয়। তাই সরকার যদি এই বিষয়টি একটু ভেবে দেখেন, তবে ভালো হয়।”
কী বলছে ইস্কন কর্তৃপক্ষ?
ইস্কনকে দায়িত্ব দেওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মেনু নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছে ইস্কন কলকাতা কর্তৃপক্ষ। ইস্কন কলকাতার সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেনু সংক্রান্ত যাবতীয় জল্পনা ভিত্তিহীন। তিনি লিখেছেন, “মিড-ডে মিলে পড়ুয়াদের কী খাওয়ানো হবে, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে পোস্টগুলি ঘুরছে, তা আমাদের নয়। এখনও কোনো মেনু চূড়ান্ত করা হয়নি।” মেনু চূড়ান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বাজেটের ঘোষণার প্রভাব
সোমবার বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত কলকাতা পৌরনিগম এলাকার স্কুলগুলির মিড-ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব ইস্কনকে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই মূলত ডিমের প্রয়োজনীয়তা ও খাদ্যতালিকায় নিরামিষ খাবারের আধিক্য নিয়ে শুরু হয়েছে জনমত। এখন দেখার বিষয়, সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত কী মেনু নির্ধারণ করে ইস্কন ও প্রশাসন।