“আঙুল তুলে কথা বলবেন না!” বিধানসভায় তৃণমূলকে তুলোধোনা করে কাঁপালেন বাঁকুড়ার চন্দনা, হাঁ শঙ্কর ঘোষও!

শহরের কোলাহল থেকে দূরে, বাঁকুড়ার শালতোড়ার এক অত্যন্ত সাধারণ মাটির বাড়ি থেকে উঠে এসে তিনি আজ বিধানসভার অলিন্দে। কিন্তু তাঁর কণ্ঠস্বরের তেজ টেক্কা দিতে পারে যেকোনোও পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদকেও। তিনি চন্দনা বাউড়ি (Chandana Bauri)। সম্প্রতি বিধানসভার ভেতরে তাঁর ঝাঁজালো বক্তব্য এবং বিরোধীদের চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হয়েছে।
আজ বিধানসভার অধিবেশনে বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি যখন বক্তব্য রাখতে ওঠেন, তখন শাসক দলের তরফ থেকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্রী নন চন্দনা। তৃণমূল বিধায়কদের দিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি সাফ বলেন, “আঙুল তুলে কথা বলবেন না।” তাঁর এই নির্ভীক রূপ দেখে মুহূর্তে থমকে যায় বিরোধী শিবির।
শুধু তাই নয়, অতীতে বিজেপির বিরুদ্ধে করা শাসক দলের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যেরও আজ কড়া জবাব দেন চন্দনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরোনো বিতর্কিত মন্তব্য ‘দুধেল গাই’ থেকে শুরু করে অনুব্রত মণ্ডলের সেই বহুচর্চিত ‘চড়াম চড়াম ঢাক বাজবে’— বিরোধীদের সমস্ত পুরোনো ‘কু-ভাষণ’-এর যোগ্য জবাব ফিরিয়ে দেন তিনি। শালতোড়ার বিধায়কের এই তীক্ষ্ণ ও যুক্তিপূর্ণ আক্রমণ শুনে মুগ্ধ হয়ে যান দলের সতীর্থ তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও।
একেবারে অতিসাধারণ পরিবার, যেখানে দিনমজুর খেটে সংসার চলত, সেখান থেকে এসে বিধানসভার মতো গুরুগম্ভীর জায়গায় চন্দনা বাউড়ির এই আত্মবিশ্বাসী ও তেজী ভাষণ এখন নেটপাড়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।