জ্বলন্ত চিতা থেকে ফিরল লাশ! ১ কোটির সম্পত্তির লোভে কি খুন গ্রেটার নয়ডার নববধূ? হাড়হিম করা ঘটনা

প্রেমের টানে পরিবারের অমতে ঘর ছেড়েছিলেন ২০ বছর বয়সী মনিকা নগর। স্বপ্ন ছিল ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সুখের সংসার করবেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন মাস পেরোতেই সেই স্বপ্নের করুণ ও বীভৎস সমাপ্তি ঘটল। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার দাদরি এলাকায় মনিকার রহস্যজনক মৃত্যু ও তড়িঘড়ি তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই নাটকীয় হয়ে ওঠে যে, খবর পেয়ে পুলিশ জ্বলন্ত চিতা থেকে মনিকার অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

১ কোটি টাকার সম্পত্তির টানাপোড়েন?
নিহতের মা রেনু নগরের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তিনি জানিয়েছেন, মনিকার নামে প্রায় ১ কোটি টাকার সম্পত্তি ছিল। বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্বামী অনুজ চৌহান ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ওই সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য মনিকার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছিল। মনিকা রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। অভিযোগ উঠেছে, সম্পত্তির লোভে পথ পরিষ্কার করতেই মনিকাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

শেষ ফোনের সেই আর্তনাদ
মৃতের মা জানিয়েছেন, গত ৭ই মে বিকেলে মনিকা ফোন করে তাঁকে বলেছিলেন যে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে মারধর করছে। এর কিছু পরেই বৃহস্পতিবার জানা যায় মনিকা আর নেই। আশ্চর্যজনকভাবে, মনিকার পরিবারকে কোনো খবর না দিয়েই তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন দ্রুত মৃতদেহ দাহ করার জন্য শ্মশানে নিয়ে যান। পুলিশ ও বাপের বাড়ির লোকজন যখন পৌঁছান, তখন চিতা জ্বলছিল। পুলিশি অভিযানে চিতা নিভিয়ে দেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়, তবে ততক্ষণে অভিযুক্ত স্বামী ও তাঁর পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

নিকি হত্যা মামলার ছায়া
এই রোমহর্ষক ঘটনাটি দাদরির স্থানীয়দের মনে ২০২৫ সালের কুখ্যাত নিকি হত্যা মামলার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সেই মামলাতেও এক নববধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে তাঁর স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের জেল হয়েছিল। মনিকার ক্ষেত্রেও পুলিশি তদন্তের আগেই তড়িঘড়ি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা জনমনে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশি পদক্ষেপ
এসিপি জিতেন্দ্র কুমার সিং জানিয়েছেন, “আমরা চিতা থেকে দেহের কিছু অংশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

বিয়ের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় একজন তরুণীর এমন রহস্যজনক মৃত্যু এবং শ্মশানে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার ঘটনায় বর্তমানে গোটা দাদরি এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।