ছেলের বিয়ের আগেই নিভে গেল প্রাণ! শ্বশুরমশাইয়ের মৃত্যু সইতে পারলেন না পুত্রবধূ, কান্নায় ভেঙে পড়ল গোটা গ্রাম

রাজস্থানের যোধপুর জেলার বাসনি মানানা গ্রামে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা সম্পর্কের গভীরতাকে নতুন করে চিনিয়ে দিয়ে গেল। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে শোকের স্তব্ধতা নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। পরিবারের অভিভাবক ৯৫ বছর বয়সী অমৃত সিংয়ের প্রয়াণের পর, শোক সইতে না পেরে প্রাণ হারালেন তাঁর প্রিয় পুত্রবধূ মঞ্জু কানওয়ার (৪৭)।

বাবার শূন্যতা সইতে পারলেন না ‘মেয়ে’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অমৃত সিং দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গত ১১ই মে সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু এই মৃত্যু যেন বজ্রপাতের মতো আছড়ে পড়ে তাঁর পুত্রবধূ মঞ্জু কানওয়ারের ওপর। মঞ্জু তাঁর শ্বশুরমশাইকে নিজের বাবার মতোই শ্রদ্ধা করতেন এবং ছায়ার মতো তাঁর সেবা করতেন। শ্বশুরের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ক্রমাগত মানসিক চাপে আচমকাই তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেন হেমারেজ) শুরু হয়।

বিয়ের আনন্দ বদলে গেল হাহাকারে
১২ই মে সকালে যখন অমৃত সিংয়ের দাহকার্য সম্পন্ন হচ্ছিল, ঠিক তখনই যোধপুরের এমডিএম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন মঞ্জু। বিকেলে আসে সেই দুঃসংবাদ— চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ১৩ই মে একই বাড়ি থেকে ফের বের হয় আরও একটি শবযাত্রা।

এই ঘটনার করুণ রস আরও ঘনীভূত হয় একটি তথ্যে। আগামী ২০২৬ সালের নভেম্বরে মঞ্জু কানওয়ারের দুই ছেলে— জয়পুরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার শ্যাম সিং এবং সমর সিংয়ের বিয়ের কথা ছিল। সেই বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে প্রবল উচ্ছ্বসিত ছিলেন মঞ্জু। কয়েক দিন আগেই আত্মীয়ের বিয়েতে নেচেছিলেন, আনন্দ করেছিলেন। হবু পুত্রবধূদের ঘরে তোলার বদলে নিজেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

স্মৃতিতে আজও অমলিন
গ্রামবাসীরা জানান, মঞ্জু কেবল একজন গৃহবধূ ছিলেন না, তিনি ছিলেন গোটা পরিবারের স্তম্ভ। তাঁর দুই ভাই নারায়ণ ও রাজেন্দ্র সিং আজও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, দু’দিন আগে যাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল, তিনি আজ ছবি হয়ে গেছেন।

যোধপুরের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল, আজও সংসারে শ্বশুর ও পুত্রবধূর সম্পর্ক বাবা-মেয়ের মতোই পবিত্র এবং গভীর হতে পারে। এই শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এখন সমবেদনা জানাচ্ছেন সকল গ্রামবাসী।