উন্নাও কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের বিরাট ধাক্কা! কুলদীপ সেঙ্গারের জামিন বাতিল, ফের শ্রীঘরে দাপুটে নেতা?

উন্নাও ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সিং সেঙ্গারের স্বস্তি কেড়ে নিল সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ও সাজা স্থগিতের নির্দেশিকা পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত জেলেই থাকতে হবে সেঙ্গারকে।

হাইকোর্টের নির্দেশে সুপ্রিম ধাক্কা
নিম্ন আদালত কুলদীপ সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও দিল্লি হাইকোর্ট মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সাজা স্থগিত রেখে জামিন মঞ্জুর করেছিল। হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল সিবিআই। এদিন সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ বাতিল করে দিয়ে দিল্লি হাইকোর্টকে আগামী দুই মাসের মধ্যে মূল আপিল মামলার শুনানি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে।

তর্ক-বিতর্ক: বিধায়ক কি সরকারি কর্মচারী?
শুনানি চলাকালীন সেঙ্গারের আইনজীবী দাবি করেন যে, সরকারি কর্মচারী হওয়ার কারণে তাঁর মক্কেলকে আটক করা হচ্ছে। এই যুক্তি থেকেই আদালতে নতুন এক তর্কের জন্ম হয়— একজন বিধায়ক বা এমএলএ কি আদৌ ‘সরকারি কর্মচারী’ (Public Servant) হিসেবে গণ্য হবেন? সেঙ্গারের আইনজীবীর আরও দাবি, যে নির্যাতিতাকে নাবালিকা বলা হচ্ছে, তিনি আদতে নাবালিকা ছিলেন না এবং এই তথ্য তাঁরা প্রমাণ করতে সক্ষম।

কড়া অবস্থানে সিবিআই ও সুপ্রিম কোর্ট
সিবিআই-এর পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, আগামী ২৫ তারিখ হাইকোর্টে আপিলের শুনানির জন্য তাঁরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, যদি কোনো কারণে দুই মাসের মধ্যে মূল আপিলের নিষ্পত্তি না হয়, তবেই হাইকোর্ট সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনে সাজা স্থগিতের বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

উন্নাওয়ের সেই নৃশংস ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন জনপ্রতিনিধির এই অপরাধের বিচার যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, শীর্ষ আদালতের এদিনের রায় সেই লক্ষ্যেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগামী দুই মাস তাই সেঙ্গার এবং উন্নাও মামলার ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।