ইরানের ডেরায় লুকিয়ে আমেরিকার ‘ঘরের শত্রু’! ধরিয়ে দিলেই ১.৬ কোটি টাকা, এফবিআই-এর মেগা অফার

আন্তর্জাতিক রাজনীতির দাবার চালে এবার এক ‘ঘরের শত্রু’কে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠল আমেরিকা। প্রাক্তন মার্কিন বিমান বাহিনীর স্পেশালিস্ট মনিকা উইট—যিনি এক সময় দেশের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করতেন, আজ তিনিই আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। পলাতক এই মহিলা অফিসারকে খুঁজে বের করতে বা গ্রেপ্তার করতে সাহায্য করলে ২ লক্ষ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা) পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে এফবিআই (FBI)।
কে এই মনিকা উইট? কেন তিনি এত ভয়ঙ্কর?
মনিকা উইট ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মার্কিন বিমান বাহিনীর বিশেষ তদন্ত দপ্তরে একজন ‘কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স’ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের অতি সংবেদনশীল গোয়েন্দা মিশনে তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, চাকরি ছাড়ার পর মনিকা দেশের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেন। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অসংখ্য অতি গোপন নথি ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে তুলে দেন।
ইরানেই কি আত্মগোপন?
এফবিআই-এর ধারণা, ২০১৩ সালে মনিকা ইরানে পালিয়ে যান। এরপর ২০১৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। মনে করা হচ্ছে, বর্তমানে তিনি ইরানি সরকারি কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মদতে সেখানেই বসবাস করছেন। ইরান সরকার তাঁকে বাসস্থান থেকে শুরু করে কম্পিউটার সরঞ্জাম—সবরকম সাহায্য প্রদান করছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
তীব্র উত্তেজনা ও এফবিআই-এর আবেদন
এফবিআই-এর ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা বিষয়টি ভুলে যাইনি। ইরানের এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে কেউ না কেউ নিশ্চয়ই মনিকার অবস্থান সম্পর্কে জানেন।” মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, মনিকা আজও ইরানের হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে মদত দিয়ে যাচ্ছেন।
শুধু মনিকাই নন, তাঁর এই ষড়যন্ত্রে সাহায্য করার অভিযোগে আরও চারজন ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমান আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের চরম উত্তেজনার আবহে মনিকা উইটকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এখন পেন্টাগনের কাছে সম্মানের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।