ইসলামাবাদে কি যুদ্ধের অবসান? আমেরিকা-ইরান গোপন চুক্তির নেপথ্যে ‘অদৃশ্য’ নেতা মোজতবা খামেনি!

মধ্যপ্রাচ্যের বারুদের স্তূপে কি এবার শান্তির জল পড়বে? বিশ্ব রাজনীতির অলিন্দে এখন এই একটিই প্রশ্ন। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে বসতে চলেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সহায়তায় তৈরি একটি ‘১৪-দফা’ খসড়া চুক্তির ওপর ভিত্তি করে এই আলোচনা এগোবে বলে জানা গেছে। যার মূল লক্ষ্য—এক মাসব্যাপী সংলাপের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটানো।
১৪ দফার ফর্মুলা: কী আছে চুক্তিতে?
সূত্রমতে, এই প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা হ্রাস এবং ইরানের কাছে থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোনো বন্ধু দেশে স্থানান্তরের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পথটা খুব একটা মসৃণ নয়। পারমাণবিক কর্মসূচি বজায় রাখা এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনো দুই দেশ অনড় অবস্থানে রয়েছে।
মোজতবা খামেনি: উর্দির আড়ালে রহস্যময় এক নায়ক
এই পুরো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, মোজতবা খামেনি পর্দার আড়ালে থেকেই যুদ্ধের কৌশল এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার মূল রূপরেখা তৈরি করছেন। যদিও ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামো বর্তমানে কিছুটা খণ্ডিত, তবুও মোজতবা অত্যন্ত সুকৌশলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
অজ্ঞাতবাসে ‘আহত’ নেতা: প্রযুক্তি থেকে শতহস্ত দূরে
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, মোজতবা খামেনি বর্তমানে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন না। যুদ্ধের শুরুতে এক ভয়াবহ হামলায় তাঁর বাবা ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন। সেই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। নিরাপত্তার খাতিরে তাঁকে এখন একটি গোপন স্থানে রাখা হয়েছে, যেখানে তিনি কেবল বার্তাবাহক বা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমেই যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
শারীরিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সূত্রের খবর, হামলায় তাঁর শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছিল। তবে ইরানের প্রোটোকল প্রধান মাজহার হোসেইনি জানিয়েছেন, মোজতবা এখন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর পা ও পিঠে আঘাত থাকলেও তিনি এখন বিপদমুক্ত। সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পাজেশকিয়ানও জানিয়েছেন, মোজতবার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে।
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এই রহস্যময় নেতার নেতৃত্বেই কি তবে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের নতুন সমীকরণ তৈরি হবে? ইসলামাবাদের আসন্ন বৈঠকই দেবে সেই উত্তর।