শনিবার শনিদেবের পুজোয় এই একটি ভুল করলেই বিপদ! কেন ভুলেও ছোঁবেন না তামার পাত্র?

হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ও বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে কর্মফলের দেবতা বা ‘ন্যায়বিচারক’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বলা হয়, শনিদেবের কৃপা থাকলে যেমন জীবন সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে, তেমনই তাঁর কোপ পড়লে রাজা ও ফকির হতে সময় লাগে না। বিশেষ করে যাঁরা বর্তমানে শনির সাড়ে সাতি বা ঢাইয়ার কবলে রয়েছেন, তাঁদের জন্য শনিবারের পুজো ও উপবাস অত্যন্ত ফলদায়ক।
তবে নিষ্ঠাভরে পুজো করলেও অনেকেই অজান্তে এমন একটি ভুল করেন, যাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, শনিদেবের পুজোয় তামার পাত্র ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কেন এই বিধিনিষেধ? এর পেছনে রয়েছে এক পৌরাণিক ও জ্যোতিষীয় কারণ।
পিতা-পুত্রের চিরন্তন শত্রুতা
সাধারণত যে কোনো দেবতার পুজোয় তামার পাত্রকে সবচেয়ে পবিত্র ও শুভ বলে মনে করা হয়। কিন্তু শনিদেবের ক্ষেত্রে নিয়মটি একদম উল্টো। এর কারণ লুকিয়ে রয়েছে গ্রহরাজ সূর্যের মধ্যে। জ্যোতিষশাস্ত্রে তামা হলো সূর্যদেবের প্রিয় ধাতু। ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, সূর্যদেব ও শনিদেব সম্পর্কে পিতা ও পুত্র হলেও, তাঁদের মধ্যে চরম শত্রুতার বর্ণনা রয়েছে। যেহেতু তামা সূর্যের প্রতীক, তাই শনিদেবের পুজোয় এই ধাতুর ব্যবহার তাঁকে রুষ্ট করতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
পুজোয় কোন ধাতু ব্যবহার করবেন?
শনিদেবের কোপ থেকে বাঁচতে এবং আশীর্বাদ পেতে লোহার পাত্র ব্যবহার করা সবচেয়ে শ্রেয়। জ্যোতিষ মতে, লোহা হলো শনিদেবের নিজস্ব ধাতু।
লোহার বাসন: পুজোর উপকরণ রাখার জন্য লোহা বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করুন।
সর্ষের তেল: শনিদেবকে লোহার পাত্রে রাখা সর্ষের তেল অর্পণ করলে তিনি অত্যন্ত প্রসন্ন হন।
কালো তিল: তাঁর পুজোয় লোহার মাহাত্ম্য ও কালো তিলের ব্যবহার সাড়ে সাতির অশুভ প্রভাব কাটিয়ে জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনে।
আপনিও যদি এই শনিবার শনিদেবের পুজো করার পরিকল্পনা করেন, তবে উপাচারের তালিকায় তামার বদলে লোহাকে জায়গা দিন। মনে রাখবেন, সঠিক নিয়ম ও শুদ্ধ ভক্তিই পারে কর্মফলের দেবতার বিশেষ আশীর্বাদ আপনার জীবনে বয়ে আনতে।