মাঝরাতে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল গাড়ি, এক ছোবলেই সব শেষ! গোয়ার তরুণ কংগ্রেস নেতার মৃত্যুতে স্তব্ধ রাজনীতি

রাজনৈতিক ময়দানের লড়াই অসমাপ্ত রেখেই চিরতরে বিদায় নিলেন গোয়া কংগ্রেসের তরুণ তুর্কি কেতন ভাটিকার। বৃহস্পতিবার রাতে কর্ণাটকের দান্ডেলিতে নিজের বাড়িতে ফেরার পথে সাপের কামড়ে প্রাণ হারালেন ৩৮ বছর বয়সী এই লড়াকু নেতা। পণ্ডা বিধানসভা উপনির্বাচনের এই কংগ্রেস প্রার্থীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে গোয়ার রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সেই কালরাত: এক ভুলেই চরম বিপর্যয়
রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে নিজের গ্রামে ফিরছিলেন কেতন। গোয়া-কর্ণাটক সীমান্তের কারমেল ঘাটে একটি নির্জন স্থানে তিনি ভুলবশত গাড়ি থামিয়ে নিচে নেমেছিলেন। সেই অন্ধকারেই বিষধর সাপের কামড়ের শিকার হন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে গোয়ার ধরবান্দোরার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অসমাপ্ত আইনি লড়াই
কেতন ভাটিকার কেবল একজন জননেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক কণ্ঠস্বর। হাইকোর্টের রায়ে পণ্ডা উপনির্বাচন বাতিল হওয়ার পর তিনি হার মানেননি। পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে তিনি সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ অনুমতি আবেদন (SLP) করেছিলেন। শীর্ষ আদালতে যখন তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সেই শুনানি বিচারাধীন, ঠিক তখনই প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর আঘাতে স্তব্ধ হয়ে গেল তাঁর জীবন।
শোকস্তব্ধ কংগ্রেস শিবির
বিরোধী দলনেতা ইউরি আলেমাও কেতনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “জনসেবার প্রতি তাঁর যে নিষ্ঠা ছিল, তা আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবারকে শক্তি জোগানোর প্রার্থনা করি।”
গোয়া প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (GPCC) পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন বার্তায় জানানো হয়েছে, “কেতনের মৃত্যু আমাদের দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দল ও সমাজের প্রতি তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে। তাঁর অকাল প্রয়াণে আমরা এক সুযোগ্য সহকর্মীকে হারালাম।”
একজন প্রতিশ্রুতিবান নেতার এভাবে অকালে ঝরে পড়া মানতে পারছেন না তাঁর অনুগামীরা। আইনি লড়াইয়ের ময়দান থেকে রাজনীতির অলিন্দ— সর্বত্রই আজ কেবল কেতনের স্মৃতি আর হাহাকার।