কেরালার কুর্সিতে কে? ১০ বছরের অপেক্ষা শেষেও কেন থমকে আছে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা!

কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পাঁচ দিন অতিক্রান্ত। দীর্ঘ ১০ বছরের খরা কাটিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UDF)। কিন্তু জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কে হচ্ছেন কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চললেও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করতে পারেনি কংগ্রেস হাইকমান্ড, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেপথ্যে কংগ্রেসের ‘থ্রি-স্টেপ’ ফর্মুলা
দলীয় সূত্রে খবর, কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কংগ্রেস নেতৃত্ব তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। প্রথমত, নবনির্বাচিত বিধায়কদের ব্যক্তিগত মতামত নেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের মনোভাব বোঝা হচ্ছে। এবং তৃতীয় ও সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জনমত। সাধারণ মানুষের মধ্যে কার গ্রহণযোগ্যতা সবথেকে বেশি, তা যাচাই করেই চূড়ান্ত সিলমোহর দিতে চায় দিল্লি।
রেসে এগিয়ে তিন হেভিওয়েট, দিল্লির ফোনে লুকিয়ে রহস্য
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে বর্তমানে তিন জন নেতার নাম সবথেকে বেশি আলোচিত হচ্ছে—কে.সি. ভেনুগোপাল, রমেশ চেন্নিথালা এবং ভি.ডি. সতীশান। সূত্রের দাবি, দলীয় হাইকমান্ড নাম চূড়ান্ত করার পর সরাসরি এই তিন নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলবে। যদি তাঁরা তিনজনই এক নামে একমত হন, তবে আজ-কালের মধ্যেই নাম ঘোষণা হয়ে যাবে। কিন্তু যদি কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়, তবে তাঁদের দিল্লিতে তলব করা হতে পারে। চমকপ্রদ বিষয় হলো, কংগ্রেস এবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মিত্র দলগুলোর ভিন্নমত থাকলেও তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।
পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টেই ভাগ্য নির্ধারণ
ইতিমধ্যেই অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (AICC) পর্যবেক্ষক অজয় মাকেন এবং মুকুল ওয়াসনিক তিরুবনন্তপুরমে বিধায়কদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। অজয় মাকেন জানিয়েছেন, “বিধায়করা এক-লাইনের একটি প্রস্তাব পাস করেছেন, যেখানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেই চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিটি বিধায়কের আলাদা আলাদা মতামত সংগ্রহ করেছি এবং একটি বিশদ রিপোর্ট খাড়গে সাহেবের কাছে জমা দেওয়া হবে।”
কেরালার রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দিল্লির দিকে। একদিকে প্রশাসনিক কাজের চাপ আর অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে দলের অন্দরের সমীকরণ—সব মিলিয়ে কংগ্রেস হাইকমান্ড এমন একজনকে বেছে নিতে চাইছে যিনি আগামী ৫ বছর এই জোট সরকারকে দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কার কপালে জোটে কেরালার রাজতিলক।