দুর্ঘটনা নাকি শ্লীলতাহানির চেষ্টা? ওড়িশায় খোদ কনস্টেবলকে পিটিয়ে মারল উত্তেজিত জনতা, তোলপাড় দেশ!

বৃহস্পতিবার ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরের উপকণ্ঠে ঘটে গেল এক নারকীয় ঘটনা। একটি সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা এবং তার পরবর্তী শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নিল বালিয়ান্তা থানা এলাকা। উত্তেজিত জনতা এক জিআরপি (GRP) কনস্টেবলকে দড়ি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি নৃশংস ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা দেখে শিউরে উঠছে মানুষ।
দুর্ঘটনা থেকে গণপিটুনি: ঠিক কী ঘটেছিল?
মৃত ব্যক্তির নাম সৌম্য রঞ্জন সোয়াইন (৩২)। তিনি ওড়িশা জিআরপি-তে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন এবং কটক জেলার আদর্শপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, সৌম্য তাঁর বন্ধু ওম প্রকাশ রাউতের সঙ্গে বাইকে করে ভুবনেশ্বরের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি স্কুটারে থাকা দুই তরুণীর সঙ্গে তাঁদের বাইকের সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার পর কনস্টেবল এবং ওই তরুণীদের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মহিলারা চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। অভিযোগ, পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এবং গ্রামবাসীরা সৌম্য ও তাঁর বন্ধুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে নির্মমভাবে মারধর শুরু করে।
পুলিশি উদ্ধার ও মৃত্যু
খবর পেয়ে বালিয়ান্তা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা সৌম্য রঞ্জন সোয়াইনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বন্ধু ওম প্রকাশ বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তরুণীর মারাত্মক অভিযোগ
ঘটনার মোড় ঘোরে যখন স্কুটারে থাকা এক তরুণী মৃত কনস্টেবলের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। ভুবনেশ্বরের ডিসিপি জগমোহন মীনা জানিয়েছেন, “এই ঘটনায় তিনটি পক্ষ রয়েছে—স্কুটারে থাকা মহিলারা, বাইক আরোহী যুবকরা এবং স্থানীয় জনতা। এক মহিলা কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন, যার তদন্ত চলছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
প্রকাশ্য রাস্তায় একজন পুলিশ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশ মহাপরিচালককে (DGP) নির্দেশ দিয়েছেন যাতে দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয়। ডিসিপি জানিয়েছেন, ভাইরাল ভিডিও দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ব্যক্তিদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
শ্লীলতাহানির অভিযোগের সত্যতা যেমন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তেমনই খোদ পুলিশ কর্মীকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওড়িশা পুলিশ এখন এই ত্রিমুখী রহস্যের জট ছাড়াতে মরিয়া।