Instagram-এ আর গোপন থাকবে না কিছুই! মেটার এক সিদ্ধান্তে ফাঁস হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট!

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের খবর। ইনস্টাগ্রাম মেসেজিংয়ের ক্ষেত্রে যে বিশেষ নিরাপত্তা কবচ বা ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ (E2EE) সুবিধা পাওয়া যেত, মেটা তা পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। আজ, ৮ মে ২০২৬ থেকেই এই পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। এর ফলে আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট বা মেসেজ আর আগের মতো সুরক্ষিত থাকবে না।
ব্যক্তিগত চ্যাট কি এখন সর্বজনীন?
২০২৩ সালে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে ইনস্টাগ্রাম এই এনক্রিপশন ফিচারটি যোগ করেছিল। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই সুরক্ষা স্তরটি সরিয়ে নেওয়া হলো। সহজ কথায়, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন না থাকার অর্থ হলো, আপনার পাঠানো মেসেজগুলো এখন আর কেবল প্রেরক এবং প্রাপকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রযুক্তিগতভাবে এই তথ্যগুলো এখন তৃতীয় পক্ষের কাছে দৃশ্যমান হতে পারে।
মেটার আগাম সতর্কতা ও ব্যাকআপের পরামর্শ
মেটা গত মার্চ মাসেই একটি ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, এই পরিবর্তনের ফলে যে সমস্ত ব্যবহারকারীর চ্যাট প্রভাবিত হবে, তাঁরা চাইলে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া ফাইল বা মেসেজ ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। মূলত ব্যবহারকারীরা যাতে তাঁদের সংবেদনশীল তথ্য বা ব্যক্তিগত চ্যাটের ব্যাকআপ নিয়ে রাখতে পারেন, তার জন্যই এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বাড়ছে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেল। এখন যে কোনো প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি বা হ্যাকারদের পক্ষে এই চ্যাটগুলোতে আড়ি পাতা অনেক সহজ হবে। এর ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। তবে মেটার মালিকানাধীন অন্যান্য অ্যাপ যেমন— হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক মেসেঞ্জারেও এই একই নিয়ম চালু হবে কি না, তা নিয়ে সংস্থাটি এখনও মুখ খোলেনি।
কেন এই আকস্মিক বদল?
মুনাফা বা প্রযুক্তিগত কারণ নয়, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে বড়সড় আইনি চাপ ও শিশু সুরক্ষার প্রশ্ন। চলতি বছরের মার্চ মাসেই নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে। অভিযোগ ছিল, এনক্রিপশন ফিচারের আড়ালে শিশু নিগ্রহ বা আপত্তিকর কন্টেন্ট শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এনক্রিপশন সরিয়ে দেওয়ার ফলে এখন মেটা প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের মেসেজ স্ক্যান করতে পারবে। এর ফলে চাইল্ড অ্যাবিউজ, অনলাইন গ্রুমিং বা যে কোনো ধরনের হয়রানি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, বৃহত্তর সামাজিক সুরক্ষার স্বার্থেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় কিছুটা কাটছাঁট করার পথে হাঁটল জুকারবার্গের সংস্থা।
আপনি কি এখনও ইনস্টাগ্রামের ইনবক্সে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করছেন? এই পরিবর্তনের পর আপনার কী মত? কমেন্ট বক্সে জানান আমাদের।