নাসিক TCS কাণ্ডে তোলপাড়! মাঝরাতে গোপন ডেরায় হানা দিয়ে ধরা হলো সেই নিদা খানকে!

মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর মহিলা কর্মীদের যৌন হয়রানি এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের যে অভিযোগ উঠেছিল, তাতে এক বিশাল সাফল্য পেল পুলিশ। এই চক্রের মূল পান্ডা ও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক নিদা খানকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের একটি গোপন ডেরা থেকে তাঁকে নাটকীয়ভাবে আটক করা হয়। নিদা খানের এই গ্রেপ্তারিতে এখন গোটা দেশের নজর নাসিক মামলার দিকে।

মাঝরাতের রুদ্ধশ্বাস অভিযান
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নাসিক ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং ছত্রপতি সম্ভাজিনগর পুলিশের একটি বিশেষ দল গতকাল গভীর রাতে কাউসার পার্ক এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। নিদা খান সেখানে নিজের পরিচয় গোপন করে আত্মগোপন করেছিলেন। পুলিশ আসার খবরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আটকের পরপরই তাঁকে কড়া পাহারায় নাসিকে নিয়ে আসা হয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, নিদাকে জেরার মাধ্যমে এই ধর্মান্তর চক্রের আরও অনেক রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসবে।

বন্ধ দরজার আড়ালে রহস্যময় দিনযাপন
তদন্তে জানা গেছে, নিদা খান যে বাড়িটিতে লুকিয়েছিলেন, সেটি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে খালি পড়ে ছিল। ঘনবসতিপূর্ণ এবং ভাড়াটেদের ভিড় থাকায় এলাকাটিতে কেউ কারোর ব্যাপারে তেমন নাক গলাত না। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই বাড়ির দরজা সব সময় বন্ধ থাকত। কেবল মাঝেমধ্যে একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে দুধ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা যেত। নিদা যে বিগত ৪-৫ দিন ধরে ওই বাড়িতেই ছিলেন, তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি স্থানীয়রা।

নেপথ্যে কারা? পুলিশি স্ক্যানারে ‘সাহায্যকারীরা’
পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, নিদা খান একা নন, বরং একটি বড় নেটওয়ার্ক তাঁকে ক্রমাগত ডেরা বদল করতে সাহায্য করছিল। পুলিশ এখন সেই ‘আশ্রয়দাতা’দের খোঁজ চালাচ্ছে যারা এই অভিযুক্তকে সম্ভাজিনগরে গা ঢাকা দিতে জায়গা করে দিয়েছিল।

কী ঘটেছিল নাসিক TCS-এ?
প্রসঙ্গত, নাসিকের এই আইটি জায়ান্টের মহিলা কর্মীরা শিউরে ওঠার মতো অভিযোগ সামনে এনেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, কর্মস্থলে তাঁদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হতো, মানসিক হয়রানি করা হতো এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হতো। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯টি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT-কে।

নিদা খানের গ্রেপ্তারের পর মনে করা হচ্ছে, এই ঘটনার পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা চাঞ্চল্যকর তথ্য এবার প্রকাশ্যে আসবে। আগামী কয়েক দিনে এই মামলায় আরও একাধিক গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।