এক ‘নির্ভয়া’ বদলে দিল জীবন! উজ্জয়িনীর মমতার হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে হাজারো মেয়ে!

দিল্লির সেই হাড়হিম করা ‘নির্ভয়া’ কাণ্ড আজও ভোলেনি দেশ। কিন্তু উজ্জয়িনীর মমতা সাঙ্গের কাছে সেই ঘটনা কেবল একটি সংবাদ ছিল না, ছিল এক কঠিন সংকল্পের শুরু। নারীদের ওপর হওয়া সেই পাশবিক অত্যাচার মমতাকে এতটাই নাড়িয়ে দিয়েছিল যে, তিনি প্রতিজ্ঞা করেন—মেয়েদের আর অসহায় থাকতে দেবেন না। গত ১৪ বছর ধরে নিজের সেই সংকল্পকে বাস্তবে রূপ দিয়ে আজ তিনি হাজার হাজার নারীর প্রেরণা হয়ে উঠেছেন।

১২০০ মেয়ের ‘মাস্টারমশাই’ ও মা
মমতা সাঙ্গে বিশ্বাস করেন, বর্তমান সময়ে নারীদের নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই তিনি এ পর্যন্ত ১,২০০-র বেশি মেয়েকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মার্শাল আর্ট বা আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাঁর কাছে এই মেয়েরা কেবল ছাত্রীর নয়, নিজের কন্যার মতো। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেয়েরাও তাঁকে গুরু এবং মায়ের আসনে বসিয়েছেন। কেবল আত্মরক্ষাই নয়, সমাজের পিছিয়ে পড়া ৩০০ জন নারীকে স্বাবলম্বী করতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি।

উত্তরাখণ্ড থেকে কেরল: দুর্যোগে লড়াকু সৈনিক
মমতার সমাজসেবা কেবল উজ্জয়িনীর গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই। গত ৩০ বছর ধরে তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছেন মানুষের সেবায়। উত্তরাখণ্ডের প্রলয়ংকরী বন্যা হোক বা কেরলের অতিবৃষ্টির ধ্বংসলীলা—উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন মমতা। এমনকি জম্মুতে গিয়ে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, পৌঁছে দিয়েছেন কম্বল, রেশন ও পোশাক। দেশের সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানদের রাখি পরানো থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ পৌঁছানো—সবখানেই তিনি অগ্রণী।

৫১টি পরিবারে আনন্দের দীপাবলি
করোনা মহামারির সেই কঠিন সময়ে যখন মানুষ দিশেহারা, তখন মমতা সাঙ্গে তৈরি করেন ‘সঙ্গিনী গ্রুপ’। এই গ্রুপের মাধ্যমে তিনি ৫১টি আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারকে দত্তক নেন। প্রতি বছর দীপাবলির সময় এই পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে মিষ্টি, আতশবাজি, লক্ষ্মীর ছবি ও উপহারের ঝুড়ি নিয়ে হাজির হন তিনি। উৎসবের আনন্দ যাতে কারও কাছে ফিকে না হয়, সেটাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

রাজ্য সরকারের বিশেষ সম্মান
মমতা সাঙ্গের এই নিঃস্বার্থ কাজের স্বীকৃতি দিয়েছে খোদ প্রশাসন। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান তাঁকে রাজ্যের বিশিষ্ট সেবার জন্য ‘রাজমাতা বিজয়রাজে সিন্ধিয়া সেবা সম্মান’-এ ভূষিত করেছেন।

মমতা সাঙ্গের এই জীবনযুদ্ধ প্রমাণ করে যে, একটি সংকল্প আর অদম্য জেদ থাকলে একাই হাজারো মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়া সম্ভব। আজকের কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে তাঁর এই বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার—মেয়েরা কেবল অবলা নয়, সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে তারা নিজেরাই নিজেদের ঢাল হয়ে উঠতে পারে।