“অভিষেকের অফিসেও চলত টাকা লেনদেন!” তৃণমূলের পতনের নেপথ্যে বিস্ফোরক সত্য ফাঁস খোদ দলীয় নেতার

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ৭২ ঘণ্টা অতিক্রান্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘পতন’ এখন বাস্তব। একদিকে যখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের ঘুরে দাঁড়ানোর টনিক দিচ্ছেন, ঠিক তখনই দলের অন্দরের ফাটল প্রকাশ্যে এনে বোমা ফাটালেন বহরমপুরের তৃণমূল চেয়ারম্যান তথা এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, উন্নয়নের জোয়ার থাকলেও তৃণমূলের এই শোচনীয় পরিণতির একমাত্র কারণ হলো লাগামহীন ‘দুর্নীতি’।
“পৌরসভা দখলের রাজনীতিই কাল হলো”
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে নাড়ুগোপালবাবু যে তথ্য সামনে এনেছেন, তা রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তাঁর মতে, বিরোধী দলের পঞ্চায়েত বা পৌরসভাগুলোতে কাজ করতে না দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৃণমূল শুরু করেছিল, তা মানুষের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, “বাম আমলে বিরোধী দল পরিচালিত পৌরসভাগুলো কাজ করার সুযোগ পেত। কিন্তু আমাদের সময়ে নিয়ম ছিল— তৃণমূল না করলে কাজ হবে না। পৌরসভাগুলোকে বঞ্চিত করে জোর করে তৃণমূলের ছাতার তলায় আনা হতো।”
তৃণমূলের ৮০ হাজার বুথ সভাপতিই কি দুর্নীতিগ্রস্ত?
তৃণমূলের শিকড়ে যে পচন ধরেছিল, তা নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের কথাতেই স্পষ্ট। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, দলের গ্রাসরুট বা তৃণমূল স্তরে দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল। তাঁর কথায়, “রাজ্যে ৮০ হাজার বুথ থাকলে, ৮০ হাজার বুথ সভাপতিই দুর্নীতিতে জড়িত ছিল। পাড়ায় একটা ঢালাই রাস্তা করতে গেলেও টাকা দিতে হতো। কোনো একজন নয়, ধাপে ধাপে সবাই টাকা নিত।” এমনকি আবাস যোজনার ঘরে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়া হতো বলে দাবি করেছেন তিনি।
অভিষেকের অফিস নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভাবমূর্তি যখন স্বচ্ছ রাখার চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এই নেতা। নাড়ুগোপালবাবুর দাবি, “কলকাতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও কর্মীদের টাকা দিতে হতো। এমনকি তপসিয়ার পার্টি অফিসে গেলেও নিস্তার ছিল না।” তবে ফিরহাদ হাকিমের মতো বড় নেতারা সরাসরি টাকা নেননি বলে তিনি দাবি করলেও, নীচুতলার কর্মীদের বেপরোয়া আচরণই যে দলকে ডোবাল, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত।
উন্নয়ন বনাম দুর্নীতি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা উন্নয়নের প্রশংসা করলেও নাড়ুগোপালবাবুর মতে, সেই উন্নয়নকে গ্রাস করে ফেলেছে নিচুতলার সিন্ডিকেট রাজ। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যে কতটা গভীর ছিল, তা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট। প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা যখন আইপ্যাক-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তখন নাড়ুগোপালের এই স্বগতোক্তি তৃণমূলের ‘ঘর গোছানো’র কাজকে আরও কঠিন করে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এখন দেখার, সরকার পরিবর্তনের পর এই দুর্নীতির অভিযোগগুলো নিয়ে নতুন সরকার কোনো কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।