পরীক্ষায় বসার নিয়মে বৈপ্লবিক বদল! ধর্মীয় পোশাক ও রক্ষা কবচ নিয়ে বড় ঘোষণা NTA-র

দেশজুড়ে উচ্চশিক্ষার দোরগোড়া খুলতে চলেছে। আগামী ১১ মে থেকে শুরু হচ্ছে ভারতের সমস্ত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা বা ‘কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট’ (CUET-UG 2026)। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) আয়োজিত এই মেগা পরীক্ষা চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। শুধুমাত্র ভারতেই নয়, দেশের বাইরেও বিদেশের ১৫টি শহরে এই পরীক্ষার আসর বসতে চলেছে। তবে এবারের পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের জন্য জারি করা বিশেষ ‘ড্রেস কোড’ বা পোশাকবিধি নিয়ে।

ধর্মীয় ভাবাবেগে বিশেষ সম্মান:
বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কানবালা, হিজাব বা ধর্মীয় পোশাক নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার সেই পথে হাঁটেনি এনটিএ। সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীরা তাঁদের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসের পোশাক পরে স্বচ্ছন্দে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসতে পারবেন। শুধু তাই নয়, কবজিতে লাল বা হলুদ সুতো এবং রক্ষা কবচ পরার ক্ষেত্রেও এবার আর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। পরীক্ষার্থীদের ধর্মীয় আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এই উদার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

পোশাক নিয়ে বিশেষ পরামর্শ:
পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য এনটিএ বেশ কিছু নির্দেশিকা দিয়েছে:

হালকা রঙের পোশাক: তল্লাশির সুবিধার্থে এবং গরমে আরামদায়ক অভিজ্ঞতার জন্য সাদা বা যেকোনো হালকা রঙের পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শীতের পোশাক: আবহাওয়া বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে কেউ যদি উলের পোশাক পরতে চান, তবে তাতেও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

শর্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
তবে ধর্মীয় পোশাক বা বিশেষ উলের পোশাকের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে এনটিএ। যারা এই ধরনের পোশাক পরে আসবেন, তাঁদের সাধারণ পরীক্ষার্থীদের চেয়ে অনেকটা আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীরা যাতে নির্বিঘ্নে এবং সঠিকভাবে পরীক্ষার্থীকে তল্লাশি করতে পারেন, সেই কারণেই এই বাড়তি সময়টুকু চাওয়া হয়েছে। তল্লাশিতে সবুজ সংকেত মিললেই মিলবে পরীক্ষা কক্ষে ঢোকার অনুমতি।

মেধা যাচাইয়ের এই লড়াইয়ে যাতে কোনো পরীক্ষার্থী তাঁর পোশাক বা বিশ্বাসের কারণে মানসিক চাপে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এবার ডিজিটাল নজরদারির পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি।