“নদীর জলে লুকিয়ে রাখা চোলাই মদ”- অভিনব পন্থায় ৪০ লাখ টাকার মদ উদ্ধার করলো পুলিশ

হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় চোলাই মদের রমরমা কারবারের পর্দা ফাঁস করল পুলিশ। অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রেখেও শেষ রক্ষা হল না। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ ও আবগারি দপ্তর একযোগে উলুবেড়িয়ার মজাই ও হীরাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করল প্রায় ২০ হাজার লিটার চোলাই মদ। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ সম্পূর্ণ রূপে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

আবগারি দপ্তর সূত্রে খবর, নষ্ট হওয়া প্রায় ২০ হাজার লিটার চোলাই মদের বাজার মূল্য আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকা। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই মজাই ও হীরাপুর এলাকায় চোলাই মদের অবৈধ কারবারের খবর পুলিশের কাছে আসছিল। এই এলাকাগুলি চোলাই কারবারের আখড়া হয়ে উঠেছিল।

সেই খবরের ভিত্তিতেই চোলাই চক্রকে ধরতে শুক্রবার হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ, আবগারি দপ্তর এবং সিভিল ডিফেন্সের একটি দল একযোগে ওই এলাকায় বিশাল অভিযান চালায়। এদিনের এই অভিযানে প্রযুক্তিকে কাজে লাগায় পুলিশ। আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি লঞ্চের মাধ্যমে নদীতেও নজরদারি চালানো হয়।

জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, এই অভিযানে বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখা চোলাই মদ উদ্ধারের পাশাপাশি নদী থেকেও বিপুল পরিমাণ চোলাই উদ্ধার হয়। চোলাই কারবারিরা অত্যন্ত সুচতুরভাবে নদীর জলে ওজন বেঁধে ড্রামে বা অন্যান্য পাত্রে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ লুকিয়ে রেখেছিল, যাতে কারোর চোখে না পড়ে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এবং ড্রোনের সাহায্যে নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে ডুবুরি নামিয়ে সমস্ত মদের বোতল এবং পাত্র উদ্ধার করা হয়।

এদিনের অভিযানে একাধিক চোলাই মদ তৈরির কারখানা বা ভাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা। প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই এলাকার চোলাই মদের অবৈধ ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করা এবং অসামাজিক কার্যকলাপের মূলে আঘাত হানা। প্রশাসনের এই সাঁড়াশি অভিযানে চোলাই কারবারিদের বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। এই অভিযান আগামী দিনেও জারি থাকবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।