ঝন্টু শেখের কফিনবন্দি দেহ পৌঁছাতেই কান্নায় রোল, গান স্যালুট দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হল বীর শহিদকে

মাতৃভূমির সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। সেই বীর শহিদ ল্যান্সনায়েক ঝন্টু শেখের নিথর দেহ অবশেষে কফিনবন্দী হয়ে পৌঁছালো তাঁর নিজের গ্রামে, নদিয়ার তেহট্টের পাথরঘাটা এলাকায়। পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী সকালেই গ্রামের বাড়িতে শহিদ জওয়ানের দেহ পৌঁছানো মাত্র এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
ঘরের ছেলের কফিনবন্দী দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা, স্ত্রী এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন। স্বজনদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। শুধু পরিবার নয়, পাথরঘাটা গ্রামের অসংখ্য মানুষ এই দুঃসময়ে শহিদ পরিবারে পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের প্রিয় সন্তানকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমিয়েছিলেন। সকলের চোখেমুখেই ছিল গভীর শোক আর এক বীর সন্তানকে হারানোর বেদনা।
এই সীমাহীন কষ্টের মধ্যেও এক দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন শহিদ ঝন্টু শেখের বড় ভাই শফিকুল শেখ। চোখে জল নিয়েও তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানান—সব রকমের অশান্তি ও বিভেদ ভুলে সকলে যেন একযোগে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করার এবং শহিদদের আত্ম বলিদানকে সম্মান জানানোর শপথ নেন।
বেলা প্রায় ১১টা নাগাদ শহিদ ঝন্টু শেখকে তাঁর গ্রামের বাড়িতেই পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গান স্যালুট দিয়ে এই বীর সন্তানকে সম্মান জানানো হয়, যা উপস্থিত সকলকে আরও বেশি আবেগাপ্লুত করে তোলে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হিন্দু পর্যটকদের উপর যে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, তার পর থেকেই গোটা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বদলার আওয়াজ উঠছিল। এই হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উধমপুর এলাকায় জঙ্গিদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সেই সময় জঙ্গিদের সঙ্গে মুখোমুখি গুলির লড়াইয়ে অসম সাহসীকতার পরিচয় দিয়ে শহিদ হন ল্যান্সনায়েক ঝন্টু শেখ। তাঁর শহিদ হওয়ার দুঃসংবাদ তেহট্টের বাড়িতে পৌঁছানো মাত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। পাথরঘাটা গ্রাম সেদিন থেকেই ঘরের ছেলের নিথর দেহ ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল। গোটা এলাকা বীর জওয়ানের ছবি দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে।
জানা গেছে, জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় ঝন্টু শেখের মাথায় এবং দুই কাঁধে গুলি লেগেছিল। তাঁর সতীর্থ জওয়ানরাই তাঁকে সংকটজনক অবস্থায় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তাঁকে বাঁচানো যায়নি। কাশ্মীরে শহিদ হওয়ার পর ঝন্টু শেখের দেহ প্রথমে ব্যারাকপুরের সেনা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেখান থেকেই সমস্ত সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। শুক্রবার ব্যারাকপুর সেনা হাসপাতালের মর্গে শহিদকে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গিয়েছিল বিধাননগর পৌরসভার মেয়র সব্যসাচী দত্তকেও।
বীর শহিদ ঝন্টু শেখের এই আত্ম বলিদান দেশের মানুষের মনে গভীর শোকের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।