অশান্ত মুর্শিদাবাদে যেতে পারবেন শুভেন্দু, শর্তসাপেক্ষে অনুমতি কলকাতা হাইকোর্টের

কলকাতা হাইকোর্ট বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ‘অশান্ত’ মুর্শিদাবাদে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তবে এই অনুমতি সাপেক্ষে আদালত একাধিক শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, ধুলিয়ান এবং সামশেরগঞ্জের মতো উত্তপ্ত এলাকায় যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে রাজ্য প্রশাসনকে তার সফরের বিষয়ে অবহিত করতে হবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কেবলমাত্র আরেক আবেদনকারী বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ মুর্শিদাবাদ যেতে পারবেন। তাদের সঙ্গে কেবলমাত্র নিরাপত্তারক্ষীরা থাকতে পারবেন বলে বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে।
এছাড়াও, শুভেন্দু অধিকারীর মুর্শিদাবাদ সফরে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে, হিংসা কবলিত মুর্শিদাবাদে তিনি কোনও মিছিল বা রাজনৈতিক সভা করতে পারবেন না। কোনও প্রকার বক্তৃতা প্রদান থেকেও তাকে বিরত থাকতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এমন কোনও মন্তব্য করা থেকেও বিরোধী দলনেতাকে বারণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই শুনানির ফাঁকেই এসএসসি (SSC) প্রশ্ন তুলেছে যে আদালত অবমাননার মামলা শোনার এক্তিয়ার হাইকোর্টের আছে কিনা।
এদিনের শুনানিতে বিরোধী দলনেতার পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদের হিংসা কবলিত এলাকায় যেতে চান বিরোধী দলনেতা। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরাও সেখানে যাচ্ছেন। কংগ্রেস, সিপিআইএম নেতৃত্বও গিয়েছিল। এর আগেও শুভেন্দু অধিকারী যখনই যেখানে গিয়েছেন, বাধার মুখে পড়েছেন। সন্দেশখালি পরিদর্শনের সময়েও একই ঘটনা ঘটেছিল।”
এর বিরোধিতায় অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত পালটা সওয়াল করে বলেন, “আবেদনকারী রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তিনি নিয়মিত হাইকোর্টে মামলা করেন। তিনি তার পদের সুযোগ নিয়ে অনুমতি চাইছেন। তিনি সেখানে গেলে মানুষ জড়ো হবেন এবং পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে, অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে।”
যদিও, রাজ্যের এই আপত্তি মানতে চায়নি কলকাতা হাইকোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী নির্দেশ দেন যে, শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদে যেতে পারবেন। তবে তার সফরের দিনক্ষণ আগে থেকে নির্ধারণ করে তা ২৪ ঘণ্টা আগে রাজ্য প্রশাসনকে জানাতে হবে।