ছত্তিশগড়ে বড় সাফল্য, অভিযান বন্ধ করলে শান্তি আলোচনায় রাজি মাওবাদীরা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চলতি এপ্রিল মাসে ছত্তিশগড় সফরের আগে বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্য সরকারের মাওবাদী বিরোধী লাগাতার অভিযানে কোণঠাসা হয়ে অবশেষে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিল মাওবাদীরা। বিবৃতি জারি করে তারা জানিয়েছে, সরকার অভিযান বন্ধ করলে তারা যুদ্ধবিরতিতে রাজি এবং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতেও প্রস্তুত।
মাওবাদীদের সেন্ট্রাল কমিটির পক্ষ থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। মাওবাদী মুখপাত্র এই বিবৃতি প্রকাশ করেন। তেলুগু ভাষায় লেখা ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪শে মার্চ হায়দ্রাবাদে কমিটির অধিকাংশ সদস্য কোনো শর্ত ছাড়াই সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এবং যুদ্ধ বিরতির পক্ষে মত দিয়েছেন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে ছত্তিশগড়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় শর্মা শান্তি আলোচনার প্রস্তাব রেখেছিলেন। তখন দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে থাকার বিষয়ে আপত্তি না থাকলেও, অভিযান বন্ধ করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।
লাগাতার অভিযানে ছত্রভঙ্গ মাওবাদীরা:
তবে সরকার সেই প্রস্তাব মানেনি। গত ১৫ মাসে সরকারের লাগাতার অভিযানে প্রায় ৪০০-র বেশি মাওবাদী নেতা, পিএলজি যোদ্ধা ও কমান্ডার নিহত হয়েছে বলে খবর। বহু মাওবাদী গ্রেফতারও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েই ফের শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিল মাওবাদীরা। বার্তায় তারা জানিয়েছে, মানুষের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে এই আলোচনা করতে চায় তারা। তবে ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় অভিযান বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে তারা।
মাওবাদীদের দাবি:
মাওবাদীরা আরও জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য যে নতুন ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। সরকার তাদের প্রস্তাবে রাজি হলেই তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালেও মাওবাদীদের পক্ষ থেকে একই ধরনের শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তবে সেই প্রস্তাবের কিছু শর্তে সরকার রাজি হয়নি। এবার সরকারের পক্ষ থেকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটাই দেখার।
প্রসঙ্গত, গত বছর বস্তারে নিরাপত্তা বাহিনী ২৮৭ জন মাওবাদীকে নিকেশ করেছে। গ্রেফতার হয়েছে হাজারেরও বেশি মাওবাদী। পাশাপাশি ৮৩৭ জন আত্মসমর্পণ করেছে। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১৩০ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১১০ জনই বস্তারের। ছত্তিশগড়ে বিজেপি সরকার আসার পর মাওবাদী অধ্যুষিত জেলার সংখ্যা ১২ থেকে কমে অর্ধেকের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে।