OMG! মাকে আনতে গিয়ে আয়ার হাতে মার খেলেন মেয়ে, কাটোয়ার হাসপাতালে শোরগোল

নদিয়ার কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে এক আয়ার বিরুদ্ধে এক রোগী এবং তাঁর মেয়েকে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার, যখন ৭৫ বছর বয়সী রোগী রূপসী ভক্তকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন তাঁর মেয়ে সান্ত্বনা ঘোষ। স্যালাইনের চ্যানেল খোলাকে কেন্দ্র করে আয়ার সঙ্গে সান্ত্বনার কথা কাটাকাটি হয়, যার জেরে এই মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।

ঘটনার বিবরণ

নদিয়ার কালীগঞ্জের চর চুয়াডাঙার বাসিন্দা রূপসী ভক্ত দীর্ঘদিন ধরে হাই সুগার, পায়ের ইনফেকশন এবং হৃদরোগে ভুগছিলেন। গত ১৫ মার্চ তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার তাঁর ছুটি হওয়ার পর বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। রূপসীর ছেলে নিত্যগোপাল জানান, তিনি এবং তাঁর বোন সান্ত্বনা মাকে নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। রাতে মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আয়া সুনন্দাকে সান্ত্বনা স্যালাইনের চ্যানেল খুলতে বলেন। এই নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আয়া সান্ত্বনার গায়ে হাত তোলেন।

নিত্যগোপাল বলেন, “সুনন্দা নামে আয়া আমার বোনের চুল টেনে ছিঁড়ে দেন, কিল-চড় মারেন। এমনকী আমার মায়ের গায়েও হাত তুলেছেন।” এই হামলার জেরে সান্ত্বনা গুরুতর আহত হন এবং তাঁকে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ

নিত্যগোপাল জানান, এই ঘটনায় তাঁরা গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি বলেন, “আমরা মাকে বাড়ি নিয়ে যেতে গিয়েছিলাম। কিন্তু এমন আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া চলছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার সুশান্তবরণ দত্ত জানিয়েছেন, “রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে একজন আয়ার বাদানুবাদ হয়েছে বলে শুনেছি। সম্ভবত কোনও পুরোনো ঘটনার জেরে এটি ঘটেছে। তবে আমাদের কাছে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। রোগীর আত্মীয়রা থানায় গিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। পুলিশ সহযোগিতা চাইলে আমরা সাহায্য করব। লিখিত অভিযোগ এলে তাও খতিয়ে দেখা হবে।” তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এলাকায় চাঞ্চল্য

এই ঘটনা হাসপাতালে এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। হাসপাতালের মতো স্থানে এমন আচরণে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রোগীর পরিবারের দাবি, এই ঘটনার জন্য দায়ী আয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পুলিশের তদন্তে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।

এই ঘটনা হাসপাতালে কর্মীদের আচরণ এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।