১ হাজার ৫০০-র বেশি বিজ্ঞানী-গবেষককে ছাঁটাই করছেন ট্রাম্প, নিলেন বড় পদক্ষেপ

সরকারি ব্যয় কমানোর নামে যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৫০০-এরও বেশি বিজ্ঞানী ও গবেষককে চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের বিজ্ঞান, মহাকাশ ও প্রযুক্তি বিষয়ক কমিটি। মঙ্গলবার কংগ্রেসের অধিবেশনে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এই পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিজ্ঞানী ও গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সিতে (ইপিএ) কর্মরত। তাঁরা পরিবেশ দূষণ, সুপেয় পানি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিয়োজিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ১৫০০-এর বেশি কর্মীদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনকে অন্য সরকারি সংস্থায় বদলির পরিকল্পনা রয়েছে, বাকিরা চাকরিচ্যুত হয়ে পড়বেন।

ট্রাম্প প্রশাসন এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে গত ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর থেকে সরকারি ব্যয় কাটছাঁটের অজুহাতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে সরিয়েছে প্রশাসন। ইপিএ-তে বর্তমানে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি বিজ্ঞানী ও গবেষক কর্মরত রয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইপিএ-র প্রশাসক লি জেলডিনকে জানিয়েছিলেন, এই সংস্থার ৬৫ শতাংশ লোকবল ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইপিএ-র মুখপাত্র মলি ভাসেলিউ এএফপি-কে জানিয়েছেন, “এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমরা সক্রিয়ভাবে কর্মীদের মতামত শুনছি এবং সংস্থার দক্ষতা বাড়ানোর উপায় খুঁজছি।” তিনি আরও বলেন, “ইপিএ পরিচ্ছন্ন বাতাস, পানি ও ভূমি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সংসদ সদস্যরা। হাউস কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ক্যালিফোর্নিয়ার এমপি জোই লফগ্রিন এএফপি-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে বিজ্ঞানকে রাজনৈতিকীকরণ করেছিলেন। এবার তিনি বিজ্ঞানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “ইপিএ তার আইনি দায়িত্ব পালন করতে পারবে না যদি এর গবেষণা শাখা ধ্বংস করা হয়। এটি আমেরিকানদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি।”

পরিকল্পনার প্রেক্ষাপট

ইপিএ-র গবেষণা শাখা বন্ধ করে দেওয়ার এই পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর লক্ষ্যের অংশ, যার উদ্দেশ্য ফেডারেল সরকারের আকার ছোট করা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত নিয়মকানুন শিথিল করা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে পানি ও বায়ুর গুণমান পর্যবেক্ষণ, বিষাক্ত শিল্প odpady পরিচ্ছন্নতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার কাজে বাধা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইপিএ-র মূল লক্ষ্য—মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষা—মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

সূত্র: এএফপি