“স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফেরত দিন”- আমেরিকার কাছে দাবি করলেন ফরাসি এমপি

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রতীক স্ট্যাচু অব লিবার্টি, যিনি গত ১৪০ বছর ধরে নিউইয়র্কের লিবার্টি দ্বীপে দাঁড়িয়ে আছেন, তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ফ্রান্সের একজন আইনপ্রণেতা। ফরাসি পার্লামেন্ট সদস্য রাফায়েল গ্লাকসম্যানের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যে মূল্যবোধের জন্য ফ্রান্স ১৮৮৫ সালে এই ভাস্কর্যটি যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দিয়েছিল, তার মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা মন্ডের বরাত দিয়ে সোমবার (১৭ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

গ্লাকসম্যানের দাবি

রোববার এক জনসমাবেশে বামপন্থি রাজনীতিবিদ গ্লাকসম্যান বলেন, “আমাদের স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফিরিয়ে দাও। আমরা সেই আমেরিকানদের বলব, যারা অত্যাচারীদের পক্ষ নিয়েছে, যারা বৈজ্ঞানিক স্বাধীনতার দাবিতে গবেষকদের বরখাস্ত করেছে, তাদের উচিত এটি ফিরিয়ে দেওয়া।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা এর মর্যাদা রাখতে পারছে না। তাই এটি আমাদের দেশেই ভালো থাকবে।”

গ্লাকসম্যানের এই দাবির পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি পরিবর্তন। তিনি বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ হ্রাসের সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপগুলো স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে স্ট্যাচু অব লিবার্টির মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৮৮৫ সালে ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রকে এই ভাস্কর্যটি উপহার দেয়, যা ফরাসি শিল্পী ফ্রেডেরিক বার্থোলডি ডিজাইন করেছিলেন। ১৮৮৬ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্লোভার ক্লিভল্যান্ড এটির উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ১৯২৪ সালে এটিকে ‘জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ’ হিসেবে ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এই ভাস্কর্যটি দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার স্বাধীনতা ও অভিবাসীদের জন্য আশার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা

গ্লাকসম্যান, যিনি ইউক্রেনের ঘোর সমর্থক, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন। গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে তিনি কড়া সমালোচনা করেছেন। এছাড়া, ট্রাম্প সরকারের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তহবিল কমানোর সিদ্ধান্তকেও তিনি “বৈজ্ঞানিক স্বাধীনতার উপর আঘাত” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ফরাসি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, মার্কিন গবেষকদের ফ্রান্সে কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিতে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

গ্লাকসম্যানের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা মন্ডে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর এই দাবি কেবল প্রতীকী নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক বার্তা। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।

বিতর্কের সূত্রপাত

এই ঘটনা ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের উপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক ভাবমূর্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গ্লাকসম্যানের বক্তব্যকে অনেকে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান জোরালো করার কৌশল হিসেবেও দেখছেন।

স্ট্যাচু অব লিবার্টি নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও জোরালো হবে কিনা, তা সময়ই বলবে। তবে এটি স্পষ্ট যে, এই ভাস্কর্যটি কেবল একটি স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্ক ও মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।