ভোট শতাংশের দৌড়ে পিছিয়ে ছিল দক্ষিণ কলকাতা, ৫টা বাজতেই কি মেক-আপ দিল ভবানীপুর? ভাইরাল ভোটের পরিসংখ্যান!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার মহারণে নজর এখন খাস কলকাতার দিকে। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সম্মুখ সমরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। তবে সকাল থেকেই ভোট শতাংশের নিরিখে এক অদ্ভুত সমীকরণ দেখা গিয়েছে— দক্ষিণ কলকাতার তুলনায় উত্তর কলকাতায় ভোটদানের হার ছিল বেশি।

ভোট শতাংশের পরিসংখ্যান: নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যের গড় ভোট শতাংশ প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে এক ঐতিহাসিক নজির গড়েছে। কিন্তু কলকাতার অভ্যন্তরে লড়াই ছিল বেশ হাড্ডাহাড্ডি:

  • উত্তর কলকাতা: সকাল থেকেই ভোটের গতি বজায় রেখে বিকেল পর্যন্ত উত্তর কলকাতায় ভোটদানের হার গড়ে ৭৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

  • দক্ষিণ কলকাতা: দুপুরের দিকে দক্ষিণ কলকাতা কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও (বিকেল ৩টে পর্যন্ত প্রায় ৭৫.৩৮%), বিকেলের দিকে ভবানীপুর ও সংলগ্ন এলাকায় ভোটারদের ঢল নামে।

  • ভবানীপুরের ছবি: বিকেল ৫টার হিসাব অনুযায়ী, হাই-ভোল্টেজ ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট পড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি। যদিও উত্তর কলকাতার কিছু পকেটে ভোটদানের হার এর চেয়েও বেশি ছিল, তবে বিকেলের পর দক্ষিণ কলকাতার ভোটাররা সেই ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছেন।

কেন এই ব্যবধান? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কলকাতার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সকাল সকাল ভোট দেওয়ার প্রবণতা বরাবরের। অন্যদিকে, ভবানীপুরের মতো আভিজাত্যপূর্ণ ও মিশ্র জনবসতির এলাকায় ভোটগ্রহণের গতি বিকেলের দিকে বাড়ে। বিকেলের দিকে মুখ্যমন্ত্রী এবং শুভেন্দু অধিকারী একই বুথ চত্বরে মুখোমুখি হওয়ায় উত্তেজনা বাড়ে, যা ভোটারদের বুথমুখী হতে আরও বেশি প্রভাবিত করেছে।

কমিশনের নজরদারি: পুরো কলকাতা জুড়েই ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালিয়েছে কমিশন। ভবানীপুরের কয়েকটি বুথে ছোটখাটো বচসার খবর মিললেও ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ২০১১-র পরিবর্তনের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যাওয়া এই বিশাল ভোট শতাংশ ৪ঠা মে কার ঝুলি ভরিয়ে দেয়, এখন সেটাই দেখার।