বিকেল ৫টাতেই ইতিহাস! ২০২৬-এর বিধানসভায় রেকর্ড ভোটদানে কাঁপছে বাংলা, কেন ঘুম ছুটছে শাসক-বিরোধী দুই শিবিরেরই?

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এতদিন মাইলফলক হয়ে ছিল ২০১১ সালের সেই ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচন। সেবার বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে ‘পরিবর্তন’ এনেছিল বাংলার মানুষ। কিন্তু ২০২৬-এর ২৯শে এপ্রিল, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষে দেখা যাচ্ছে, সেই ‘পরিবর্তনের’ রেকর্ডও এবার কার্যত চুরমার হয়ে গিয়েছে। বিকেল ৫টা বাজতেই ভোটদানের হার ৯০ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করায় রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন পাটিগণিত।

রেকর্ড ভাঙা ভোটদানের খতিয়ান: ২০১১ সালে রাজ্যে গড়ে ৮৪-৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা ছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। কিন্তু ২০২৬-এর দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, তা অতীতের সব রেকর্ডকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান, হুগলি এবং নদীয়া জেলায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রীতিমতো বিস্ময় তৈরি করেছে রাজনৈতিক মহলে।

এই রেকর্ড হার কিসের ইঙ্গিত? সাধারণত ভোট শতাংশের এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে দুই ধরণের তত্ত্ব কাজ করে:

  • তত্ত্ব ১ (পরিবর্তন): রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যখন সাধারণ মানুষ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ থাকে বা বড় কোনো পরিবর্তনের আশা করে, তখন বুথে বুথে ভোটের এমন ঢল নামে। ২০১১ সালে বামফ্রন্টের বিদায়ের আগে এমনটাই দেখা গিয়েছিল।

  • তত্ত্ব ২ (প্রতিরোধ): অন্য পক্ষের দাবি, শাসকদলের শক্ত সংগঠন যদি ভোটারদের বুথমুখী করতে পারে, তবে তা বর্তমান সরকারের প্রতি সমর্থনেরই প্রতিফলন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল পেতে মানুষ মরিয়া হয়ে ভোট দিয়েছেন।

কেন চিন্তায় দুই শিবির? ভোট শতাংশ বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে নিচুতলার কর্মীরা। শাসকদল তৃণমূলের দাবি, প্রথম দফার চেয়েও ভালো ফল হবে এবার। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “মানুষ শান্তিতে ভোট দিতে পেরেছে বলেই এই রেকর্ড হার, যা আসলে পরিবর্তনের বার্তা।” কিন্তু এই বিপুল জনমত আসলে কার ঝুলি ভরাবে, তা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বও কিছুটা ধন্দে।

অপেক্ষা ৪ঠা মে-র: ফলতা থেকে ক্যানিং—বিক্ষিপ্ত অশান্তি আর রক্তাক্ত বুথ সামলেও বাংলার মানুষ যেভাবে গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হয়েছেন, তাতে জয়ী হয়েছে গণতন্ত্রই। তবে আসল জয় কার? ইভিএম-এ বন্দি এই জনস্রোত কার ভাগ্য নির্ধারণ করবে, তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ঠা মে

বাংলার মসনদে কি হ্যাটট্রিক করবেন মমতা? নাকি মোদী-শাহের বঙ্গ জয়ের স্বপ্ন সফল হবে ২০২৬-এ? উত্তর পেতে আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা।