ক্যানিং পূর্বে ‘ভোট সন্ত্রাস’? রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ৬ বিজেপি কর্মী! অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন ফের রক্তাক্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব। বুধবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই বুথে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অন্তত ৬ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে, মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

কী ঘটেছিল আজ সকালে? বিজেপির অভিযোগ, ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত একটি বুথে তাঁদের কর্মীরা যখন ভোটারদের সহায়তা করছিলেন, সেই সময় হঠাৎই লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগের তির সরাসরি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের দাবি, তাঁদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং প্রতিবাদ করায় বেধড়ক মারধর করা হয়।

রক্তাক্ত কর্মীরা হাসপাতালে: এই হামলায় ৬ জন বিজেপি কর্মী রক্তাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মাথায় ও শরীরে গুরুতর চোট লেগেছে। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।

অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ: বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “পরাজয় নিশ্চিত জেনে তৃণমূল এখন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। বুথ দখল করে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার জন্যই আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের পালটা দাবি, এটি বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল, তৃণমূলের কেউ এর সঙ্গে যুক্ত নয়।

কমিশনের পদক্ষেপ: ভোট চলাকালীন এই হামলার ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। ভোটারদের ভয়মুক্ত করতে পুলিশ ও আধিকারিকরা বুথে বুথে ঘুরছেন। তবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট আতঙ্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ক্যানিংয়ের পরিস্থিতি এখন থমথমে। বিরোধীরা এই ঘটনায় পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলছেন কি না, সেটাই এখন দেখার।