E20 পেট্রোলে কমছে কি গাড়ির মাইলেজ? নতুন সমীক্ষায় মিলল উদ্বেগজনক তথ্য

ভারতজুড়ে পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের হার বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রচার বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ গাড়ির মালিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল উদ্বেগ। ‘লোকাল সার্কেলস’ (LocalCircles)-এর সাম্প্রতিক এক দেশব্যাপী সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, ইথানল মিশ্রিত E20 পেট্রোল ব্যবহারের ফলে পেট্রোলচালিত পুরনো গাড়িগুলির মাইলেজ ও পারফর্ম্যান্সে বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সমীক্ষায় কী জানা গেল? ২০২৩ সালের আগে কেনা পেট্রোলচালিত গাড়ির মালিকদের ওপর চালানো এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সিংহভাগই অভিযোগ করেছেন যে, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারের পর তাঁদের গাড়ির செயலক্ষমতা কমছে। সমীক্ষার মূল বিষয়গুলো হলো:

  • মাইলেজ হ্রাস: প্রতি তিনজনের মধ্যে দু’জনের দাবি, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারের ফলে তাঁদের গাড়ির মাইলেজ ১০ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। এমনকি ২৩ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাঁদের মাইলেজ ২০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

  • পারফর্ম্যান্স ও ক্ষয়: প্রায় ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষয়ের হার বেড়েছে এবং ঘনঘন মেরামতের প্রয়োজন হচ্ছে। গত এক মাসে এই অভিযোগ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

  • পারফর্ম্যান্স ড্রপ: প্রায় ৪৫ শতাংশ মালিক জানিয়েছেন, তাঁদের গাড়ির পারফর্ম্যান্স লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

সরকারের অবস্থান ও বাস্তবতা: কেন্দ্রীয় সরকার অশোধিত তেল আমদানি কমানো এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকেই দেশজুড়ে E20 পেট্রোল চালু করেছে। সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এটি আপাতত পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে বলেও কেন্দ্রের পরিকল্পনা রয়েছে।

কিন্তু সরকারের এই আশ্বাসের বিপরীতে স্থানীয় গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলছে। বিশেষ করে পুরনো ইঞ্জিনের গাড়িগুলোতে ইথানলের প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলেও বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

কেন এই প্রভাব? বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো ইঞ্জিনগুলি মূলত বিশুদ্ধ পেট্রোলের জন্য তৈরি। ইথানল একটি দ্রাবক (solvent) হিসেবে কাজ করে, যা পুরনো গাড়ির জ্বালানি ব্যবস্থায় থাকা রাবার বা প্লাস্টিকের পাইপ ও সিলগুলোকে দ্রুত ক্ষয় করে দিতে পারে। এছাড়া ইথানলের ক্যালরিফিক ভ্যালু পেট্রোলের তুলনায় কিছুটা কম হওয়ায় এটি ব্যবহারের ফলে মাইলেজ কিছুটা কমে যাওয়া স্বাভাবিক।

সব মিলিয়ে, সরকারি লক্ষ্যমাত্রার সাথে বাস্তব ব্যবহারের এই ফারাক নিয়ে সাধারণ গাড়ির মালিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে, তা দীর্ঘমেয়াদে অটোমোবাইল সেক্টরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *