নিষেধাজ্ঞা মুক্ত ৪ ভারতীয় কোম্পানি! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘এসডিএন’ তালিকা থেকে বড় স্বস্তি হায়দ্রাবাদ, দিল্লি ও আহমেদাবাদের

মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ‘স্পেশালি ডেজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকা থেকে চারটি ভারতীয় কোম্পানিকে মুক্ত করা হয়েছে। হায়দ্রাবাদের আরআরজি ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজিস ও লোকেশ মেশিনস, আহমেদাবাদের গ্যালাক্সি বেয়ারিংস এবং দিল্লির শৌর্য অ্যারোনটিক্সকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়ার সাথে আর্থিক বা প্রযুক্তিগত লেনদেনের অভিযোগে মার্কিন ‘অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো?
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। সেই সময় অভিযোগ ওঠে, কিছু ভারতীয় সংস্থা রুশ সরকারকে পরোক্ষভাবে প্রযুক্তিগত বা বস্তুগত সহায়তা দিচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে ২০২১-২৪ সময়কালে ১৯টি কোম্পানি ও দুইজন ব্যক্তি—মোট ২১টি ভারতীয় সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়।
পরবর্তীতে ভারত সরকার মার্কিন প্রশাসনের সাথে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা করে। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একজন দায়িত্বশীল সদস্য’ হিসেবে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে মেনে চলে। সংস্থাগুলোকে দেশীয় আইন ও রপ্তানি নীতি সম্পর্কে সচেতন করতে মন্ত্রণালয় নিয়মিত প্রচারও চালিয়েছে। এরপরই এই নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনার পথে হাঁটল ওয়াশিংটন।
কোম্পানিগুলোর গুরুত্ব:
তালিকামুক্ত হওয়া চারটি কোম্পানির মধ্যে দুটি—গ্যালাক্সি বেয়ারিংস এবং লোকেশ মেশিনস—শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত। বিশেষ করে, লোকেশ মেশিনস বিশ্বজুড়ে জন ডিয়ার, ভলভো, হোন্ডা এবং সুজুকির মতো বৃহৎ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে। অন্যদিকে, আরআরজি ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজিস ভারতের বিমান চলাচল ও ইউএভি (UAV) প্রযুক্তি খাতের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
বিশাল হালনাগাদ প্রক্রিয়া:
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ‘ওএফএসি’ জানিয়েছে, এটি তাদের একটি নিয়মিত হালনাগাদ প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র ভারতই নয়, মেক্সিকোর মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত বেশ কিছু সংস্থা ও ব্যক্তিদেরও এই তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের লাইসেন্সিং কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করেই এই নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই পদক্ষেপ ভারতের প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতের সংস্থাগুলোর জন্য বড় স্বস্তির খবর। এটি দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।