“আর কোনও স্কিমের ফর্ম ফিলআপ নয়”-অন্নপূর্ণার ১২ পাতার ফর্ম বিতর্কে যা বললেন শুভেন্দু

বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার মাধ্যমে রাজ্যের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সরাসরি ১ কোটি ৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মোট ১ কোটি ৩০ লক্ষ মহিলাকে এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হলেও, যাচাইয়ের পর ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

১২ পাতার ফর্ম ও ভবিষতের সুবিধা:

আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে চলা সমালোচনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, অফলাইনে ১২ পাতার ফর্মের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৪টি পাতা পূরণ করাই যথেষ্ট ছিল। তিনি বলেন, “একবার যখন পোর্টালে সমস্ত তথ্য আপলোড হয়ে গিয়েছে, তখন থেকে উপভোক্তারা কেবল অন্নপূর্ণা যোজনা নয়, বরং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অসংখ্য প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি পাবেন। তাঁদের আর নতুন করে কোনো ফর্ম পূরণ করতে হবে না।”

স্বচ্ছতা ও অযোগ্যদের বাদ দেওয়া নিয়ে মন্তব্য:

পূর্ববর্তী সরকারের প্রকল্পের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, আগে এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১০ লক্ষ পুরুষের অ্যাকাউন্টে এবং ভিনরাজ্যের বা ভিনদেশি নাগরিকদের অ্যাকাউন্টে টাকা যেত। তাই এই জালিয়াতি রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘ঝাড়াই-বাছাই’ করা ছিল বাধ্যতামূলক। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “সরকারের টাকা একমাত্র প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই পাবেন। এক্ষেত্রে কোনো পক্ষপাত করা হয়নি। সমতলের পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকার নেপালি ও গোর্খা সম্প্রদায়ের যোগ্য উপভোক্তারাও এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।”

নতুন আবেদনের সুযোগ:

যাঁরা এখনও আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের জন্য সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, অগাস্ট মাস পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন আবেদন করা যাবে। যোগ্য প্রার্থীরা নিয়ম মেনে আবেদন করলে অবশ্যই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

উপভোক্তাদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের পাঠানো ৩,০০০ টাকা বিকেলের মধ্যেই প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রান্তিক মহিলাদের ক্ষমতায়নই যে তাঁর সরকারের লক্ষ্য, তা আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

সম্পাদকীয় নোট: অন্নপূর্ণা যোজনার মতো সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অযোগ্যদের বাদ দিয়ে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *