খুনের পর ৪ দিন কেতনের মোবাইল নিয়ে কী করেছিল সিয়া? তদন্তে নামলো পুলিশ

লোহাগড় দুর্গ থেকে কেতন আগরওয়ালের রহস্যজনক পতন ও মৃত্যুর ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। তদন্তে নেমে পুনে গ্রামীণ পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার পর কেতনের মোবাইল ফোনটি দীর্ঘ কয়েকদিন অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরীর দখলে ছিল। পরে সেই ফোনটি কেতনের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ফোন থেকে ডিজিটাল প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে এখন ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশি হেফাজতে থাকা সিয়া ও চেতনের বয়ানের সত্যতা যাচাই করতে এবং ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ জানতে কেতনের মোবাইল ফোনটি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, ফোনটি অভিযুক্তদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ কল রেকর্ড, মেসেজ বা চ্যাট মুছে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। সরকারি কৌঁসুলি আদালতে জানিয়েছেন, কেতনের ফোনে কোনো ধরনের ডিজিটাল কারচুপি হয়েছে কি না, তা এই মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ:
প্রমাণের শৃঙ্খল তৈরি করতে পুলিশ বুধবার চেতন চৌধুরীকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করেছে। গত রবিবার সিয়া গোয়েলকে নিয়েও একই পদ্ধতিতে তদন্ত চালানো হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলের প্রতিটি ধাপ খুঁটিয়ে দেখছে—ঠিক কীভাবে কেতনকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বা ঘটনাটি আদৌ দুর্ঘটনা কি না, তা স্পষ্ট করতেই এই উদ্যোগ।
পরিবারের অভিযোগ:
তদন্তের এই পর্যায়ে কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়ালের পুরনো অভিযোগগুলো ফের সামনে এসেছে। তিনি জানিয়েছিলেন, সিয়া ও চেতনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে কেতন অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন। তদন্তকারীরা এখন সেই সম্পর্কের সমীকরণ এবং ডিজিটাল প্রমাণের তথ্যের মধ্যে যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করছেন।
তদন্তের ভবিষ্যৎ:
সরাসরি কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় এই মামলা মূলত পারিপার্শ্বিক ও ডিজিটাল প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। মোবাইল ফরেনসিক রিপোর্ট, ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণ এবং ধৃতদের বয়ানের অসংগতি—এই তিনটি অস্ত্র দিয়েই দোষীদের বিরুদ্ধে অকাট্য অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুনে পুলিশ। সিয়া ও চেতন এখন পর্যন্ত পুরো ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখলেও, ফরেনসিক রিপোর্ট এই রহস্যের জট খুলতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
সম্পাদকীয় নোট: এই মামলার ডিজিটাল প্রমাণাদিই সম্ভবত বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করবে। অভিযুক্তরা যদি তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করে থাকে, তবে তা তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রামাণ্য দলিল হিসেবেই গণ্য হতে পারে।