নন্দীগ্রামে ভোট দিয়ে রেকর্ড ভাঙার হুংকার মুখ্যমন্ত্রীর! ৮৫ শতাংশ ভোট পড়ার আশাবাদী শুভেন্দু অধিকারী

কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া হাই-ভোল্টেজ নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নিজের পুরনো কেন্দ্রে ভোট দিতে এদিন সকালে নন্দনায়কবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৯ নম্বর বুথে সশরীরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন যে, নন্দীগ্রামে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।

ভোটের হার ও জয়ের ব্যবধান নিয়ে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী
এদিন ভোটের সামগ্রিক হার নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁর মতে, উপনির্বাচন হওয়ায় সাধারণত অন্যান্য সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকে, তবে এবার নন্দীগ্রামে অন্তত ৮৫ শতাংশ ভোট পড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। যদি ভোটের হার ৯০ শতাংশ ছাড়ায়, তবে তা আরও ভালো হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে তিনি এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। এবার তাঁর থেকেও অনেক বেশি ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হবেন বলে আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী।

ভোটের ফল বা জয় নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার কথা সরাসরি না বললেও, এর আগে একাধিকবার নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থীর বড় ব্যবধানে জয়ের জোরালো দাবি করেছিলেন তিনি। এমনকি সেই জয়ের ব্যবধান ‘কল্পনার বাইরে’ হবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন শুভেন্দু। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ১,৯৫৬ ভোট। পরবর্তীতে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে প্রায় ৯ হাজারের কাছাকাছি ভোটে জয়ী হওয়ার পর, ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন শুভেন্দু। সেই কারণেই এই কেন্দ্রে বর্তমানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আবেগ ও রাজনৈতিক সমীকরণের মেলবন্ধন
এদিনের এই উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দুর প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। ফলে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি চন্দ্রনাথকে কেন্দ্র করে এক গভীর আবেগ ও সেন্টিমেন্টও জড়িয়ে রয়েছে এই নির্বাচনের সঙ্গে। ভোট দিয়ে বেরিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের নাড়ির টান। একজন সাধারণ ভোটার হিসাবেও তিনি আমৃত্যু এই কেন্দ্রের সঙ্গেই যুক্ত থাকবেন। নন্দীগ্রামের প্রতি তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গীকার যে আমৃত্যু বজায় থাকবে, সে কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি, নন্দনায়কবাড়ের এই নির্দিষ্ট বুথেই যে তাঁর নাম চিরকাল ভোটার হিসেবে থাকবে, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

কড়া নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ ভোট
এদিনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামজুড়ে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পারদ চড়েছিল, তার জেরে নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছিল প্রশাসন। প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র জওয়ানরা মোতায়েন রয়েছেন। প্রশাসনের এই কড়া ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই মানুষ ভোট দিচ্ছেন।

এখন সমস্ত রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের নজর আগামী ৯ অক্টোবরের ফলাফলের দিকে। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি দেবী ঠিক কত ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনেন, নাকি রাজনৈতিক অঙ্কে কোনো বড় চমক অপেক্ষা করছে, তার উত্তর মিলবে আগামী বৃহস্পতিবার ভোটের বাক্স খোলার পরেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *