কাশ্মীর থেকে ফিরছিল ২৫ বাংলাদেশি! ভারতীয় দালালের চক্রান্ত ফাঁস হতেই কুশমন্ডিতে বিরাট হানা বিএসএফের

উন্মুক্ত সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনিভাবে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফিরতে গিয়ে বিএসএফ (BSF) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ধরা পড়ল ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ২৬ জন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এবং স্থানীয়দের তৎপরতায় এই অনুপ্রবেশের ছক বানচাল করা সম্ভব হয়েছে। শুধু বাংলাদেশিরাই নন, এই অবৈধ পারাপারের চক্র চালানোর অভিযোগে এক ভারতীয় দালালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডি ব্লকের মালিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের লোহাগঞ্জ পঞ্চনগর এলাকায়।
ঠিক কী ঘটেছিল কুশমন্ডিতে?
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ধৃত ওই ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে কাশ্মীরে গিয়ে বসবাস ও কাজ করছিলেন। আইন অনুযায়ী ভারতে থাকার মতো কোনো বৈধ কাগজপত্র বা ভিসা তাঁদের কাছে ছিল না। দীর্ঘদিন কাশ্মীরে কাটিয়ে সম্প্রতি তাঁরা অবৈধ পথেই বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার রাতে তাঁরা কুশমন্ডির লোহাগঞ্জের পঞ্চনগর এলাকায় জড়ো হন। সেখান থেকে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলায় অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই এলাকায় এতগুলি অপরিচিত মুখ একসঙ্গে দেখতে পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই তারা ধানক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে পড়ার মরিয়া চেষ্টা চালায়, তবে শেষরক্ষা হয়নি।
স্থানীয়দের সতর্কতায় হাতেনাতে ধরা পড়ল চক্র
এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি, বাংলাদেশে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার নাম করে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। জানা গিয়েছে, ওপারে ফেরার জন্য গঙ্গারামপুরের কাজলতোর এলাকার বাসিন্দা বাবলু রায় নামের এক ভারতীয় দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ওই অনুপ্রবেশকারীরা। ওই দালালের মাধ্যমেই বাংলাদেশি নাগরিকরা পঞ্চনগরের কদমতলায় এসে জড়ো হয়েছিলেন।
মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে কুশমন্ডি থানা এবং স্থানীয় বিএসএফ ক্যাম্পকে খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই বিএসএফ জওয়ান ও কুশমন্ডি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। এরপর তল্লাশি চালিয়ে মোট ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় দালাল বাবলু রায়কেও আটক করা হয়। বর্তমানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এই আন্তর্জাতিক মানব পাচার ও অনুপ্রবেশ চক্রের নেপথ্য অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও বিএসএফ।