“ডিজিটাল যৌন নিপীড়ন!” এআই-এর অপব্যবহার নিয়ে বিস্ফোরক জাহ্নবী, কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি তারকাদের

তারকাদের ডিপফেক (Deepfake) ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হওয়া নিয়ে নানা সময়ে নানান বিতর্ক তৈরি হলেও পরিস্থিতি যে এক বিন্দুও বদলায়নি, তার সাম্প্রতিকতম ও নির্মম শিকার হলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর (Janhvi Kapoor)। তাঁর আসন্ন বা সাম্প্রতিক সিনেমা ‘দেভারা: পার্ট ১’ (Devara: Part 1)-এর সুপারহিট ‘ছুট্টামাল্লে’ (Chuttamalle) গানের একটি ভিডিও এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত কুরুচিকরভাবে বিকৃত ও মর্ফ করা হয়েছে। নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে প্রযুক্তির এই অপরাধমূলক অপব্যবহারকে ‘মর্যাদাহানিকর’ এবং ‘ডিজিটাল যৌন নিপীড়নের সামিল’ বলে অভিহিত করেছেন জাহ্নবী। শুধু তাই নয়, এই লজ্জাজনক ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে জাহ্নবীর পাশে দাঁড়িয়েছেন জুনিয়র এনটিআর, চিরঞ্জীবী এবং বিজয় দেবেরাকোন্ডার মতো বড় তারকারা।

জাহ্নবীর খোলামেলা প্রতিবাদ ও ইনস্টাগ্রাম পোস্ট
নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সম্মতি, ব্যক্তিগত সীমানা এবং নারীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান অপব্যবহার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, কোনো নারীর সম্মতি ছাড়া কাল্পনিক বা বিকৃত বিষয়বস্তু তৈরি ও প্রচারের ঘটনাকে কোনো ‘জটিল বিষয়’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। জাহ্নবীর কথায়, “নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে প্রযুক্তির অপরাধমূলক অপব্যবহার এবং সম্মতি ছাড়া কাল্পনিক বিষয়বস্তু ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত মর্যাদাহানিকর— যা যৌন নিপীড়নেরই নামান্তর। এটা অবাক করার মতো বিষয় যে কিছু মানুষের কাছে এই সাধারণ বিষয়টিও এখনও বেশ জটিল ঠেকে!”

তিনি আরও জানান, বিনোদন শিল্পের প্রায় প্রতিটি নারীই কোনো না কোনোভাবে এই ধরনের নোংরা মানসিকতার শিকার হন। একজন নারী অতীতে কোনো বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন মানেই যে সেই সম্মতি চিরস্থায়ী, তা নয়। কোনো নারীর পোশাক, অতীতের সিদ্ধান্ত বা পর্দায় তাঁর উপস্থিতি কখনোই অন্য কাউকে তাঁর ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘনের অধিকার দেয় না।

গর্জে উঠলেন দক্ষিণী সুপারস্টাররা
জাহ্নবীর সমর্থনে সোশাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির তাবড় তারকারা।

জুনিয়র এনটিআর (Jr NTR): এই জঘন্য কাণ্ডের তীব্র নিন্দা করে তিনি এক পোস্টে লেখেন, “ডিসপাস্টিং, সিক অ্যান্ড শেমলেস! যাঁরা এআই ব্যবহার করে এমন নিচুতলার কাজ করেছেন, তাঁদের আমি ছাড়ব না। এটি তৈরির সঙ্গে এবং ছড়ানোর সঙ্গে যুক্ত সকলের বিরুদ্ধে আমি কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেব। আজ অন্য কারও সঙ্গে হয়েছে, কাল আপনার মা, বোন বা মেয়ের সঙ্গেও হতে পারে। দয়া করে এই ধরণের কন্টেন্ট কেউ দেখবেন বা শেয়ার করবেন না।”

চিরঞ্জীবী (Chiranjeevi): এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মেগাস্টার চিরঞ্জীবী তেলুগু ফিল্ম চেম্বার ও প্রডিউসার্স কাউন্সিলের কাছে একটি ডেডিকেটেড কমিটি বা সাপোর্ট সেল গঠনের সুপারিশ করেছেন, যা সাইবার ক্রাইম অথরিটির সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি সহায়তা দেবে।

বিজয় দেবেরাকোন্ডা (Vijay Deverakonda): তিনি এই ঘটনাকে ‘ডিজিটাল যৌন নিপীড়ন’ আখ্যা দিয়ে বলেন যে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

এআই-এর এই অপব্যবহার রোধ করতে এবং মানুষের মৌলিক ডিজিটাল মর্যাদা রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলির পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম বিভাগকেও আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারকারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *